Skip to main content

Posts

অনুবর্তন - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

অনুবর্তন ( Following ) - অন্যের দেখানো পথ, আদর্শ বা নিয়ম মেনে চলার প্রক্রিয়া। অনুবর্তন ( Conditioning ) -  মনোবিজ্ঞানে উদ্দীপকের প্রতি প্রাণীর স্বয়ংক্রিয় প্রতিক্রিয়া সৃষ্টির প্রক্রিয়া।   “যদি না পোষায়, মাই ডোর ইজ ওপন…” ছাত্ররা শিক্ষকের পদাঙ্ক অনুসরণ করবে, শিক্ষকদের আদর্শ অনুসরণ করে নিজেদের গড়ে তুলবে এটাই কাম্য। অনুবর্তন উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র ' মর্ডান ইন্সটিটিউট ' এর শিক্ষকরা। উপন্যাসটি জাতিকে পথ দেখানোর কারিগরদের জীবনালেখ্য। পক্ষান্তরে, একটি জাতির জীবনালেখ্য। 

আরোগ্য নিকেতন -তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

১। কাহিনী সংক্ষেপঃ   কবিরাজি পেশা জীবন দত্তদের তিনপুরুষের পেশা। দাদা দিনবন্ধু মশায় নাড়ি দেখে রোগের চিকিৎসা করতেন। পিতা জগদ্বন্ধু মশায় প্রতিষ্ঠা করেন আরোগ্য-নিকেতন। জীবনমশায় এর পুত্র ছিলেন পাশ করা ডাক্তার। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে মশায় পরিবার চিকিৎসাবিদ্যায় নিজেদেরকে এগিয়ে নিয়েছিল। জীবন মশায়  কবিরাজির সাথে ডাক্তারি ও জানতেন। আর একটা জিনিস জানতেন। রোগীর হাত দেখে তার মৃত্যুর সময় বলে দিতে পারতেন। যাকে গ্রামবাসীরা নিদান হাঁকা বলতো।  তরুন ডাক্তার প্রদ্যোত মিত্র নিদান হাঁকাকে কুসংস্কার অনেকক্ষেত্রে অমানবিক বলে মনে করতো। সে মতির মায়ের নিদান উলটে দিয়ে তাঁকে সুস্থ করে তুলে। তার চোখে জীবন মশায়ের মতো লোকেরা হাতুড়ে ডাক্তার। কুসংস্কারাচ্ছন্ন গ্রামবাসীদেরকে এইসব লোকেদের কাছে চিকিৎসা নিতে বারণ করে।   প্রবীণ জীবন মশায় নিজের অক্ষমতা মেনে তার কাছে আসা রোগীদেরকে প্রদ্যোত ডাক্তারের কাছে আধুনিক চিকিৎসা নিতে বলতেন।  ২। দ্বিতীয় শতাব্দীতে পশ্চিমা বিশ্বে একজন প্রবাদপ্রতিম চিকিৎসাবিদ ছিলেন। তাঁর নাম ছিল গ্যালেন। গ্রীসে জন্ম হলেও গ্যালেনের কর্মভূমি ছিল রোম। টানা কয়েক দশক ধরে রোমান সম্রাট...

কাজল - তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়

 

ডমরু-চরিত (১৯২৩) - ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়

ডমরু-চরিতে একজন মহাকৃপণ, ধূর্ত, অর্থলোভী, সুযোগ-সন্ধানী এবং তৎসহ প্রবঞ্চক অথচ বুদ্ধিমান, সাহসী, কার্যপটু ব্যক্তির চোখ দিয়ে জগৎ-দর্শন করিয়েছেন গ্রন্থকার। ডমরুধর শঠ, প্রবঞ্চক, ফন্দিবাজ - এক কথায় একটি ডার্ক ক্যারেক্টার। ব্যঙ্গের সঙ্গে উদ্ভট রসের আশ্চর্য মিশ্রণেই এই বইয়ের আসল মজা। আসলে যুগটাই ছিল ব্যঙ্গ রচনার অনুকূল। সবসময় সবরকম যুগ পরিবেশে ব্যঙ্গ সাহিত্যের উদ্ভব হয় না। একধরনের সংশয়বোধ, মানসিক দ্বিধা, চিন্তার দোদুল্যমানতা ব্যঙ্গ সাহিত্যের জন্ম দিয়ে থাকে। এ প্রসঙ্গে শিশিরকুমার দাস বলেছেনঃ সমাজে যখন ভাঙন আরম্ভ হয়, যখন স্থির অবিচলিত সত্যগুলি পরিবর্তনের স্রোতে ভেসে যেতে থাকে তখনই ব্যঙ্গের সূচনা। লেখক খুব সাধারণ, হাস্যরসাত্মক চালে গল্পগুলো বলা শুরু করেন, কিন্তু হঠাৎ হঠাৎ গল্পের ভেতরে এমন এক গভীর সামাজিক সত্য বা মানব চরিত্রের স্বার্থপরতার রূপ উন্মোচন করেন, যা পাঠককে একাধারে হাসায় এবং ভাবিয়ে তোলে। বইটিতে অন্যায়কারীর বয়ানে ঘটনাগুলোকে দেখানো হয়েছে। অপরাধী মনে করে সে যথেষ্ট উচিত কাজ করছে, তার দোষ ধরা কোনোভাবেই উচিত নয়। যার ফলে পাঠকের কাছে চরিত্রটির অসাড়তা ও মানবসমাজের স্বার্...

পাগলা দাশু - সুকুমার রায় চৌধুরী

 

দৃষ্টিপ্রদীপ - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

 

যকের ধন, আবার যখের ধন - হেমেন্দ্রকুমার রায়

  সৃষ্টির একেবারে শুরুর দিকে, জগৎসংসার সচল করতে ব্রহ্মা যখন মগ্ন হয়ে সৃষ্টির কাজ করছিলেন, তখন তিনি এক অদ্ভুত প্রকৃতির জীব সৃষ্টি করলেন। এরা দেখতে যেমন দিব্য ও জ্যোতির্ময় ছিল, তেমনই এদের শক্তি ছিল প্রবল। ব্রহ্মা এদের সৃষ্টি করার পর নির্দেশ দিলেন, "তোমরা বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের জলসম্পদ, গভীর অরণ্য এবং মাটির নিচের গোপন রত্নভাণ্ডার রক্ষা করবে।" কিন্তু সৃষ্টির পরই এই জীবদের মধ্যে প্রবল ক্ষুধা ও এক অদ্ভুত অস্থিরতা দেখা দিল। তারা ব্রহ্মার দিকে তাকিয়ে হিংস্রভাবে চিৎকার করে উঠল। একদল বলল, "রক্ষাম!" (আমরা রক্ষা করব), আর অন্য দল বলল, "যক্ষাম!" (আমরা ভক্ষণ করব বা গ্রাস করব)। ব্রহ্মার আদেশ মেনে যারা মাটির নিচ ও প্রকৃতির সম্পদ রক্ষার দায়িত্ব গ্রহণ করল এবং তীব্র আসক্তি নিয়ে তা আঁকড়ে ধরে রইল, ব্রহ্মার মুখ নিঃসৃত সেই "যক্ষাম" শব্দ থেকেই তাদের নাম হয়ে গেল "যক্ষ" । যক্ষরা সৃষ্টি হলো ঠিকই, কিন্তু তাদের কড়া শাসনে রাখার জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট রাজা ছিল না।  হিমালয়ের অতীব উঁচুতে, কৈলাস পর্বতের ঠিক পাশেই অবস্থিত এক স্বর্গীয় শহর— অলকাপুরী । বিশ্বকর্মা নিজে এই শহরটি ...

তেইশ নম্বর তৈলচিত্র - আলাউদ্দিন আল আজাদ

তেইশ নম্বর তৈলচিত্র একটি মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস। উপন্যাসের প্রধান অনুষঙ্গ শিল্পীর জীবন-যাপন, চিন্তা ও কল্পনাবিশ্ব। একজন চিত্রশিল্পীর মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ এবং তার জীবন ও প্রেমকে কেন্দ্র করে এ উপন্যাসের ঘটনা আবর্তিত হয়েছে। উপন্যাসটিতে শিল্পীর মনস্তত্ত্ব ছাড়াও শিল্পের বিশেষ বিশেষ কিছু দিক লেখক অত্যন্ত সাবলীলভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। আমাদের সমাজে একটি ধারণা প্রচলিত রয়েছে—শিল্পী যদি সংসারের বাঁধনে বাধা পড়েন, তাহলে নাকি তার সৃষ্টিকর্মে ব্যাঘাত ঘটে। এ ধারণাটির পক্ষের ও বিপক্ষের মতামতগুলো ঔপন্যাসিক তাঁর নিজস্ব দক্ষতায় বিশ্লেষণ করেছেন এই উপন্যাসে। জীবনজিজ্ঞাসার ক্ষেত্রে একটি বড় দর্শনও প্রকাশ করেছেন লেখক। জাহেদকে দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, যে ঘটনায় ব্যক্তির দোষ নেই, সে ঘটনার জন্য তাকে দায়ী করা যায় না; দেওয়া যায় না শাস্তিও। বরং সেখানে ক্ষমাই শ্রেয়। শিল্প ও জীবনের সম্পর্ককে লেখক যে দৃষ্টিতে দেখেছেন, তা উপন্যাসটিকে সাধারণ প্রেমকাহিনির সীমা অতিক্রম করে একটি শিল্প-দর্শনভিত্তিক রচনায় পরিণত করেছে। তথ্যসূত্র ১. আলাউদ্দিন আল আজাদ, তেইশ নম্বর তৈলচিত্র , আহমদ পাবলিশিং হাউজ, ঢাকা, ২০১৪। ২....

বিপিনের সংসার - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

 পিতার রেখে যাওয়া সব সম্পত্তি খুইয়েও উড়নচণ্ডী বিপিনের হুশ হয়না। কাজেকর্মে মনোযোগ নেই। সংসারের দায়িত্বের প্রতি উদাসিন। এহেন পরিস্থিতিতে তার ছোট ভাই বিনোদ কিশোর বয়সেই সংসারের জোয়াল নিজের কাধে তুলে নেয়। কিন্ত, অতিরিক্ত পরিশ্রমের কারণে দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে সংসারের খরচ চালানো দায় হয়ে পড়ে। রোজ রোজ স্ত্রী মনোরমার বাকা কথা হজম করতে না পেরে অনিচ্ছা স্বত্বেও পিতার কর্মস্থল অনাদি চৌধুরির জমিদারিতে নায়েবের দায়িত্ব নেয়। কিন্ত, প্রজাদের অত্যাচার করে খাজনা আদায়ে তার মন সায় দেয়না।   বিপিন তার ভাই বিনোদের মৃত্যুর পরে জমিদারের মেয়ে, তার ছোটবেলার খেলার সাথী মানীর উৎসাহে  নায়েবী ছেড়ে রোগী দেখা শুরু করে। ডাক্তারী বিদ্যায় তার সম্বল মানীর দেয়া চিকিৎসা শাস্ত্রের একটিমাত্র বই।  আবেগি বিপিন নারীর স্নেহ পেলে গলে যায়। বিপিনের জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো তার চিন্তাজগৎ। সাংসারিক দায়িত্ব ও অভাবের গণ্ডির বাইরে গিয়ে তার মন বিভিন্ন স্বপ্নের রাজ্যে বিচরণ করে। এ সময় তার জীবনে আশেপাশের দুই বিবাহিতা নারীর প্রতি একধরণের মানসিক আকর্ষণ ও রোমান্টিক কল্পনার উন্মেষ ঘ...

নিশিপদ্ম - তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

নিশিপদ্ম    শব্দের অর্থ যে ফুল আঁধারে ফুটে। নিশিপদ্ম উপন্যাসটিতে মৃত্যু পথযাত্রী কাঞ্চনমালা তার জীবনেতিহাস বর্ণ্না করে গিয়েছে। বিচিত্র সে জীবন। কাঞ্চনমালার ভাষ্যমতে,  আটত্রিশ বছরের জীবনে সে যা দেখেছে তা তার জীবনের ঘটনার থেকেও বিচিত্র। আর ভালোবেসে যা পেয়েছে তা আবার যা দেখেছে তা থেকেও অপরুপ।  এদেশে মেয়েদের বিশেষণ অবলা। যারা বাল্যে পিতার, যৌবনে স্বামীর ও বার্ধক্যে পুত্রের দ্বারা রক্ষণীয়া। অবলা পিতৃহীন কাঞ্চনমালা বাল্যে মায়ের দ্বারা দেহ-ব্যবসায় নামে, আর যৌবনে ভালোবেসে হয়েছিলো রক্ষিতা। কাঞ্চনমালা বিশ্বাস করতো, ভাগ্যের ফাঁকি তপস্যায় লাভ হয়। গুরুর তপস্যা করতে সে শেষকালে কীর্তনগায়িকা হয়। গুরু ভজে সে উপহার পেয়েছিলো মুক্তোমালা। অমূল্য রতন মেনে সে তার যত্ন করেছিলো। সকল পঙ্কিলতা থেকে তাকে রক্ষা করেছিলো।  সত্য মানুষকে মুক্তি দেয়। কাঞ্চনমালা তার জীবনের সকল কদর্য সত্য তার কন্যা মুক্তোর কাছে বর্ণ্না করে দেহমুক্তি লাভ করে। কিন্ত, বন্দি করে যায় মুক্তোকে। মুক্তোমালা নাম বদলে হয়ে যায় মুক্তি। কিন্ত, প্রকৃতই কী তার মুক্তি মেলে ?

দুই বাড়ি - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

  পুজোর ছুটিতে লালবিহারী চাটুয্যে (পেশায় জজ) ও তার পরিবার কুড়ুলগাছি বেড়াতে আসেন। জজবাবুদের প্রতিবেশী নিধিরাম রায় সদ্য আইন পাশ করে মোক্তারি পেশায় প্রবেশ করেছে। কর্মস্থল মহকুমা টাউন। সপ্তাহান্তে বাড়িতে এসে প্রতিবেশীর ষোড়শী বালিকা কন্যা মঞ্জুরি দেবীর সাথে পরিচয় হয়। মঞ্জু'র সারল্য আর মিশুক স্বভাব এর কারণে মঞ্জুর প্রতি নিজের অজান্তেই দুর্বল হয়ে পড়ে তরুণ নিধু। মঞ্জু ও  কী নিধুর প্রতি দুর্বল ? এই প্রশ্নটি নিজেকে পর্যন্ত করার সাহস পায়না নিধু । কারণ , নিধুদের অর্থনৈতিক অবস্থা।  এক বাড়িতে নিধুর মক্কেল জোগাড় না হলে উনুনে হাড়ি চড়ে না , আরেক বাড়িতে উৎসব এর আমেজ বছরজুড়ে। একদিকে দারিদ্র, অন্যদিকে প্রাচুর্য । নিধু  নিজেকে মঞ্জুর থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে চায়। কিন্তু, মঞ্জুদের বাড়িটিতেই যেন তার শান্তি মেলে। যেখানে মঞ্জু আছে।

অশনি-সংকেত - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

  গঙ্গাচরণ বললেন, “ ও যেন গ্রামের লোকের চোখ ফুটিয়ে দিয়ে গেল। একটি মূর্তিমান বিপদের সংকেত স্বরূপ ওর মৃতদেহটা পড়ে রয়েছে আমগাছটার তলায়। অনাহারে প্রথম মৃত্যুর অশনি-সংকেত। ” অনাহারের আগুনে ছাই হয়ে যাওয়া লক্ষ লক্ষ মানুষের বিনাশের অশনি সংকেত। নিস্তেজ নিস্তরঙ্গ ব্রাহ্মণ পরিবারকে কেন্দ্র রেখে, ছোট একটা গ্রামকে নির্ভর করে গড়ে ওঠা উপন্যাসে লেখক দেখান, দুর্ভিক্ষ কীভাবে মানুষকে প্রভাবিত করে।   ভাতের জন্য কাপালীদের ছোটবউ নিজের শরীর বিকিয়ে দেয় পরপুরুষের কাছে। ব্রাক্ষ্মন দুর্গা ভট্টাচার্য মন্বন্তরের অনাহার ও অন্নাভাবের কারণে ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করতে কুণ্ঠিত হয় না। অনঙ্গ স্বামীকে লুকিয়ে অন্যের বাড়িতে ধান ভানার কাজ করে, শাক, লতা, মেটে আলু কুড়িয়ে স্বামী ছেলের মুখে খাবার তুলে দেয়। মানুষ ভাতের অভাবে শামুক গুগলি খাওয়া শুরু করে। তবুও শেষরক্ষা হয়না। মৃত্যু হানা দেয় নতুন গায়ে। কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর লেখা ‘চল্লিশের দিনগুলি’ কবিতার ভাষায় - "মানুষগুলি তখন পোকামাকড়ের মতো মরে যাচ্ছিল'... 'সে বড় অদ্ভুত এক সময় / পলকা ঠুনকো কাচের বাসনের মতোই তখন ভেঙে যাচ্ছিল সব মূল্যবোধ।"  বিভূতিভূষণ...

একেই বলে শুটিং --- সত্যজিৎ রায়

  “একেই বলে শুটিং” সত্যজিৎ রায়ের চলচ্চিত্রজীবনের অভিজ্ঞতা, স্মৃতি এবং শুটিং-ঘিরে নানা বাস্তব ঘটনার একটি জীবন্ত সংকলন। বইটির সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর স্বাভাবিক ও সহজ ভাষা। কোথাও কোনো জটিলতা নেই, কোনো অতিরিক্ত তাত্ত্বিক আলোচনা নেই। বরং মনে হয়, একজন অভিজ্ঞ চলচ্চিত্র নির্মাতা খুব স্বাভাবিকভাবে নিজের কাজের গল্প শোনাচ্ছেন। এই সরলতা বইটিকে শুধু তথ্যবহুলই নয়, অত্যন্ত উপভোগ্য করে তুলেছে। বইয়ের প্রতিটি অধ্যায়ে শুটিং চলাকালীন নানা অপ্রত্যাশিত ঘটনা, মজার মুহূর্ত এবং বাস্তব সমস্যার কথা উঠে এসেছে। বিশেষ করে *পথের পাঁচালী*, *গুপী গাইন বাঘা বাইন*–এর মতো ক্লাসিক চলচ্চিত্রের পেছনের গল্পগুলো পাঠককে এক অন্যরকম অনুভূতি দেয়। পাঠক যেন সরাসরি সেই সময়ের সেটে উপস্থিত হয়ে যান। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই বইটি পাঠককে সিনেমা দেখার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেবে। সব মিলিয়ে, “একেই বলে শুটিং” শুধু একটি বই নয়, এটি চলচ্চিত্র নির্মাণের অন্তরালের এক অনন্য জানালা। সিনেমা প্রেমীদের জন্য এটি অবশ্যই পড়ার মতো একটি বই। **রেটিং: ☆ (৪.৫/৫)**

এভারিস্ত গ্যালোয়া

গণিতবিদরা রোমান্টিক হয়না ! এই বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করলে কবি, সাহিত্যিক হওয়া যায়না !   আজকে আমি এমন দুইজন ব্যাক্তির উদাহরণ আপনাদের সামনে হাজির করবো যারা ছিলেন স্বীকৃত গণিতবিদ। কিন্তু, উপরের দুইটি স্টেটমেন্ট তাদের জন্য প্রযোজ্য নয়।  একজন হলেন উমর খৈয়াম, যাকে আপনারা কবি হিসেবে চিনে থাকবেন। কিন্তু, তিনি ছিলেন শখের কবি। যেমন ভিঞ্চি ছিলেন শখের চিত্রকর। অন্যজন হলেন, এভারিস্ট গ্যালোয়া।  "রুটি মদ ফুরিয়ে যাবে প্রিয়ার কালো চোখ ঘোলাটে হয়ে যাবে বই, সেতো অনন্ত যৌবনা।"  পারস্যের কবি উমর খৈয়ামের এই কবিতাটির সাথে আপনারা সবাই পরিচিত। তার আরেকটি বিখ্যাত উক্তি হলো -   " তোমার হৃদয়ে যেদিন ভালোবাসা থাকবে না, সে দিনটাই অপচয় হলো। "  গ্যালোয়া আরও একধাপ এগিয়ে বললেন, প্রেমিকাকে না পেলে এ জীবন রেখে লাভ নাই।  প্রেমিকাকে পাওয়ার জন্য তিনি গুলি ছাড়া বন্দুক নিয়ে লড়াইয়ে নেমে পড়লেন। যা হওয়ার তাই হলো। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় । ওই অবস্থায় ৩১ মে, ১৮৩২ সালে মারা যান।   মৃত্যুর সময় তার শয্যা পাশে ছিলো তার ছোটো ভাই আলফ্রেড। মৃত্যুর সময় তার ...

গণিতের ইতিহাস ৪

  'চিউ-চ্যাং সুয়ান-শু' যার বাংলা অর্থ 'নয় খন্ডে পাটীগণিত '।এটি চীনদেশের প্রাচীনতম গণিত গ্রন্থ।ধারণা করা হয় এর রচনাকাল খ্রীস্টপূর্ব ২৭০০ থেকে ২৬০০ অব্দের মধ্যে। কে বা কারা এর রচয়িতা সে সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। খ্রীস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতকে চ্যাং সাং নামের একজন চাইনিজ গণিতবিদ এর একটি প্রতিলিপি তৈরি করেন। যেটি বর্তমানে সংরক্ষিত আছে। প্রাচীন গণিত সম্পর্কে জানার জন্য 'চিউ-চ্যাং সুয়ান-শু' একটি অতি মূল্যবান গ্রন্থ । এর নয়টি খন্ডে, ১) ক্ষেত্র জ্যামিতি, ভগ্নাংশ ২)রুল অব থ্রি ৩) পার্টনারশিপ ৪)বর্গ এবং ঘণমূল নির্ণয় ৫) ঘন জ্যামিতি ৬) অ্যালিগেশন বা মিশ্রণ ৭) লাভ - ক্ষতি ৮) একঘাত সমীকরণ এবং ৯) পীথাগোরিয়ান ট্রিপলেট নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। প্রাচীনকালে চীনারা পাই এর মান ৩ ধরে বৃত্তের ক্ষেত্রফল নির্ণয় করতো। ঘণ জ্যামিতি অংশে প্রিজম, সিলিন্ডার, কোণ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। চ্যাং সাং এর পরে উল্লেখযোগ্য চীনা গণিতবিদ হলেন সান-ৎজু । তার রচিত গ্রন্থের নাম ' সান-ৎজু সুয়ান-চিং' বা 'সান-ৎজু র পাটীগণিত '। এটি তিন খণ্ডে বিভক্ত। এই গ্রন্থে অনির্ণেয় সমীকরণ, সংখ্যাতত্ত্ব, পরিমা...

গণিতের ইতিহাস ৩

  " যথা শিখা ময়রাণাং নাগানাং মণয়ো যথা। তদ্বদ্বেদাঙ্গশাস্ত্রাণাং গণিতং মূর্দ্ধনি স্থিতম।। " অর্থাৎ, ময়ূরের মাথার শিখার মত, সাপের মাথার মণির মত,বেদাঙ্গ নামে অভিহিত সকল বিজ্ঞানের শীর্ষস্থানে গণিতের অবস্থিতি। বৈদিক ঋষিগণ গণিত বলতে সাধারণত পাটীগণিত ও জ্যোতিষশাস্ত্রকে বুঝাতেন ; জ্যামিতি বা রেখা / ক্ষেত্র গণিত ছিলো কল্পসূত্রের অন্তর্ভুক্ত। সকল প্রকার বিদ্যার মধ্যে গণিত যে শ্রেষ্ঠ বিদ্যা, বৈদিক সাহিত্যে এর উল্লেখ একাধিক স্থানে দেখা যায়। ভারতীয় উপমহাদেশে দশভিত্তিক গণনা পদ্ধতির প্রচলন ছিলো। প্রাচীন ভারতীয়রা অনেক বড় বড় সংখ্যার নামকরণ করেছিল। গ্রীকরা ১০,০০০ কে বলতো এক মাইরিয়াড। এর থেকে বড় কোনো সংখ্যার নাম পাওয়া যায়না। অন্যদিকে, ভারতীয় উপমহাদেশের গণিতজ্ঞরা ১০০০০০০০০০০০০ এরও একটি নাম দিয়েছিলেন। ১ এক ১০ দশ ১০০ শত ১০০০ সহস্র ১০০০০ অযুত ১০০০০০ নিযুয় ১০০০০০০ প্রযুত ১০০০০০০০ অর্বুদ ১০০০০০০০০ নার্বুদ ১০০০০০০০০০ সমুদ্র ১০০০০০০০০০০ মধ্য ১০০০০০০০০০০০ অন্ত ১০০০০০০০০০০০০ পরার্ধ ৫০০০০ কে বলা হয় পঞ্চাশৎ সমস্রম। ১১,১২,১৩,... কে যেমন একাদশ, দ্বাদশ, ত্রয়োদশ,... বলা হয়। ২১,২২,২৩,..,২৫...,...

গণিতের ইতিহাস ২

  জোসেফাস্ এর মতে, মিশরীয়রা আব্রাহামের কাছ থেকে পাটীগণিতের জ্ঞান লাভ করে। পরবর্তীতে গ্রিকরা মিশরীয়দের কাছ থেকে গণিতের জ্ঞান লাভ করে। phoedrus এ প্লেটো বলেছেন, " মিশরের নক্রেটিস শহরে এক বৃদ্ধ দেবতা বাস করতেন ; দেবতার নাম ছিলো থট। আইবিস্ পাখি ছিলো তার প্রতীক। পাটীগণিত, গণনা, জ্যামিতি, দাবা খেলা প্রভৃতির দেবতা তিনি। তবে, তার সর্বশ্রেষ্ঠ দান হলো অক্ষরের ব্যবহার। " হেরোডটাস বলেন, রাজস্ব আদায়ের সুবিধার জন্য মিশরের রাজারা চতুষ্কোণ করে কাটা জমি প্রজাদের মধ্যে ভাগ করে দিতেন। নীলনদের ভাংগনে জমির যতটুকু অংশ বিলীন হয়ে যেতো ততটুকু পরিমান খাজনা মওকুফ করা হতো। রিন্ড প্যাপিরাসের একটি অংশ হলো আহেমস প্যাপিরাস। খ্রীস্টপূর্ব ১৬৫০ অব্দে আহেম নামের জনৈক পুরোহিত এটি সংকলন করেন । মিশরীয়রা দশ ভিত্তিক সংখ্যা পদ্ধতি ব্যবহার করতো। | দ্বারা ১ নির্দেশ করতো। দ্বারা ১০০,০০০ নির্দেশ করতো। দ্বারা ১,০০০,০০০ নির্দেশ করতো। দ্বারা ১০,০০,০০০ নির্দেশ করতো। এগুলো হায়ারোগ্লিফিক নামে পরিচিত। এর থেকে বুঝা যায় মিশরীয়রা বৃহৎ সংখ্যা সম্পর্কে ধারণা রাখতো। আহেমস প্যাপিরাসে সমান্তর ও গুণোত্তর ধারার ক...

গণিতের ইতিহাস ১

  গণিত এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানের আবির্ভাবের সাথে কৃষিকাজের সম্পর্ক নিবিড়। কৃষিকাজের সাথে ঋতু পরিবর্তনের রয়েছে গভীর সম্পর্ক। গণনা পদ্ধতিতে যথেষ্ট পারদর্শী না হলে ঋতুপরিবর্তন সহ অন্যান্য প্রাকৃতিক ঘটনার যথাযথ হিসাব রাখা সম্ভব নয়। খ্রিস্টের জন্মের ৫৫০০ বছর পূর্বে সুমেরীয়রা প্রথম কৃষিকাজ শুরু করে। তারও প্রায় ১০০০ বছর পরে তারা বছর গণনা শুরু করে। বছরের প্রথম মাসের নাম রাখে বৃষ। সূর্যের অবস্থান ছিলো তখন বৃষ তারা মন্ডলে। শহর নির্মানে এবং সেচ কাজে প্রাচীন ব্যাবিলনীয়, মিশরীয় এবং ভারতীয়দের আশ্চর্য নৈপুণ্যের প্রমাণ আজও বিদ্যমান। গাণিতিক জ্ঞান ছাড়া এই ধরনের কাজ এতো নিপুণভাবে করা সম্ভব নয়। ব্যবসা বানিজ্যের প্রসারে গণিতের রয়েছে অসামান্য অবদান। সুমের, এলাম, মহেঞ্জোদারো, হরপ্পা প্রভৃতি শত সহস্র মাইল ব্যবধানে অবস্থিত নানা জনপদের মধ্যে বানিজ্য সম্ভব হয়েছিল পাটিগণিতের ব্যবহারের মাধ্যমে। ব্যাবিলনীয়রা নরম মাটির চাকতির উপরে বিভিন্ন ধরনের হিসাব নিকাশ, গাণিতিক পদ্ধতি লিখে রাখতো। পরে চাকতিগুলোকে আগুনের তাপে পুড়িয়ে সংরক্ষণ করতো। ব্যাবিলনীয় লিপিকে বলা হতো কিউনিফর্ম। অসূরবনিপালের (খ্রীস্টপূর্ব ৬২৬) গ্র...