Skip to main content

Posts

Showing posts with the label বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

দুই বাড়ি - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

  পুজোর ছুটিতে লালবিহারী চাটুয্যে (পেশায় জজ) ও তার পরিবার কুড়ুলগাছি বেড়াতে আসেন। জজবাবুদের প্রতিবেশী নিধিরাম রায় সদ্য আইন পাশ করে মোক্তারি পেশায় প্রবেশ করেছে। কর্মস্থল মহকুমা টাউন। সপ্তাহান্তে বাড়িতে এসে প্রতিবেশীর ষোড়শী বালিকা কন্যা মঞ্জুরি দেবীর সাথে পরিচয় হয়। মঞ্জু'র সারল্য আর মিশুক স্বভাব এর কারণে মঞ্জুর প্রতি নিজের অজান্তেই দুর্বল হয়ে পড়ে তরুণ নিধু। মঞ্জু ও  কী নিধুর প্রতি দুর্বল ? এই প্রশ্নটি নিজেকে পর্যন্ত করার সাহস পায়না নিধু । কারণ , নিধুদের অর্থনৈতিক অবস্থা।  এক বাড়িতে নিধুর মক্কেল জোগাড় না হলে উনুনে হাড়ি চড়ে না , আরেক বাড়িতে উৎসব এর আমেজ বছরজুড়ে। একদিকে দারিদ্র, অন্যদিকে প্রাচুর্য । নিধু  নিজেকে মঞ্জুর থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে চায়। কিন্তু, মঞ্জুদের বাড়িটিতেই যেন তার শান্তি মেলে। যেখানে মঞ্জু আছে।

অশনি-সংকেত - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

  গঙ্গাচরণ বললেন, “ ও যেন গ্রামের লোকের চোখ ফুটিয়ে দিয়ে গেল। একটি মূর্তিমান বিপদের সংকেত স্বরূপ ওর মৃতদেহটা পড়ে রয়েছে আমগাছটার তলায়। অনাহারে প্রথম মৃত্যুর অশনি-সংকেত। ” অনাহারের আগুনে ছাই হয়ে যাওয়া লক্ষ লক্ষ মানুষের বিনাশের অশনি সংকেত। নিস্তেজ নিস্তরঙ্গ ব্রাহ্মণ পরিবারকে কেন্দ্র রেখে, ছোট একটা গ্রামকে নির্ভর করে গড়ে ওঠা উপন্যাসে লেখক দেখান, দুর্ভিক্ষ কীভাবে মানুষকে প্রভাবিত করে।   ভাতের জন্য কাপালীদের ছোটবউ নিজের শরীর বিকিয়ে দেয় পরপুরুষের কাছে। ব্রাক্ষ্মন দুর্গা ভট্টাচার্য মন্বন্তরের অনাহার ও অন্নাভাবের কারণে ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করতে কুণ্ঠিত হয় না। অনঙ্গ স্বামীকে লুকিয়ে অন্যের বাড়িতে ধান ভানার কাজ করে, শাক, লতা, মেটে আলু কুড়িয়ে স্বামী ছেলের মুখে খাবার তুলে দেয়। মানুষ ভাতের অভাবে শামুক গুগলি খাওয়া শুরু করে। তবুও শেষরক্ষা হয়না। মৃত্যু হানা দেয় নতুন গায়ে। কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর লেখা ‘চল্লিশের দিনগুলি’ কবিতার ভাষায় - "মানুষগুলি তখন পোকামাকড়ের মতো মরে যাচ্ছিল'... 'সে বড় অদ্ভুত এক সময় / পলকা ঠুনকো কাচের বাসনের মতোই তখন ভেঙে যাচ্ছিল সব মূল্যবোধ।"  বিভূতিভূষণ...