তেইশ নম্বর তৈলচিত্র একটি মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস। উপন্যাসের প্রধান অনুষঙ্গ শিল্পীর জীবন-যাপন, চিন্তা ও কল্পনাবিশ্ব। একজন চিত্রশিল্পীর মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ এবং তার জীবন ও প্রেমকে কেন্দ্র করে এ উপন্যাসের ঘটনা আবর্তিত হয়েছে। উপন্যাসটিতে শিল্পীর মনস্তত্ত্ব ছাড়াও শিল্পের বিশেষ বিশেষ কিছু দিক লেখক অত্যন্ত সাবলীলভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। আমাদের সমাজে একটি ধারণা প্রচলিত রয়েছে—শিল্পী যদি সংসারের বাঁধনে বাধা পড়েন, তাহলে নাকি তার সৃষ্টিকর্মে ব্যাঘাত ঘটে। এ ধারণাটির পক্ষের ও বিপক্ষের মতামতগুলো ঔপন্যাসিক তাঁর নিজস্ব দক্ষতায় বিশ্লেষণ করেছেন এই উপন্যাসে। জীবনজিজ্ঞাসার ক্ষেত্রে একটি বড় দর্শনও প্রকাশ করেছেন লেখক। জাহেদকে দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, যে ঘটনায় ব্যক্তির দোষ নেই, সে ঘটনার জন্য তাকে দায়ী করা যায় না; দেওয়া যায় না শাস্তিও। বরং সেখানে ক্ষমাই শ্রেয়। শিল্প ও জীবনের সম্পর্ককে লেখক যে দৃষ্টিতে দেখেছেন, তা উপন্যাসটিকে সাধারণ প্রেমকাহিনির সীমা অতিক্রম করে একটি শিল্প-দর্শনভিত্তিক রচনায় পরিণত করেছে। তথ্যসূত্র ১. আলাউদ্দিন আল আজাদ, তেইশ নম্বর তৈলচিত্র , আহমদ পাবলিশিং হাউজ, ঢাকা, ২০১৪। ২....