সৃষ্টির একেবারে শুরুর দিকে, জগৎসংসার সচল করতে ব্রহ্মা যখন মগ্ন হয়ে সৃষ্টির কাজ করছিলেন, তখন তিনি এক অদ্ভুত প্রকৃতির জীব সৃষ্টি করলেন। এরা দেখতে যেমন দিব্য ও জ্যোতির্ময় ছিল, তেমনই এদের শক্তি ছিল প্রবল। ব্রহ্মা এদের সৃষ্টি করার পর নির্দেশ দিলেন, "তোমরা বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের জলসম্পদ, গভীর অরণ্য এবং মাটির নিচের গোপন রত্নভাণ্ডার রক্ষা করবে।"
কিন্তু সৃষ্টির পরই এই জীবদের মধ্যে প্রবল ক্ষুধা ও এক অদ্ভুত অস্থিরতা দেখা দিল। তারা ব্রহ্মার দিকে তাকিয়ে হিংস্রভাবে চিৎকার করে উঠল। একদল বলল, "রক্ষাম!" (আমরা রক্ষা করব), আর অন্য দল বলল, "যক্ষাম!" (আমরা ভক্ষণ করব বা গ্রাস করব)। ব্রহ্মার আদেশ মেনে যারা মাটির নিচ ও প্রকৃতির সম্পদ রক্ষার দায়িত্ব গ্রহণ করল এবং তীব্র আসক্তি নিয়ে তা আঁকড়ে ধরে রইল, ব্রহ্মার মুখ নিঃসৃত সেই "যক্ষাম" শব্দ থেকেই তাদের নাম হয়ে গেল "যক্ষ"।
যক্ষরা সৃষ্টি হলো ঠিকই, কিন্তু তাদের কড়া শাসনে রাখার জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট রাজা ছিল না।
হিমালয়ের অতীব উঁচুতে, কৈলাস পর্বতের ঠিক পাশেই অবস্থিত এক স্বর্গীয় শহর—অলকাপুরী। বিশ্বকর্মা নিজে এই শহরটি নির্মাণ করেছিলেন সোনা, হীরা আর মহামূল্যবান মণি-মুক্তা দিয়ে। অলকাপুরীর প্রতিটি প্রান্তে উড়ত সুগন্ধী বাতাস, আর সেখানকার রাজপ্রাসাদগুলো জ্বলজ্বল করত সূর্যের আলোর মতো। এই অলকাপুরীর রাজা ছিলেন কুবের। জন্মসূত্রে রাক্ষসরাজ রাবণের বড় ভাই হলেও, তিনি রাক্ষসদের মতো অধর্মাচরণে লিপ্ত ছিলেন না। তিনি ছিলেন অত্যন্ত ধার্মিক ও তপস্বী। কুবের বুঝতে পেরেছিলেন যে, ক্ষমতার চেয়ে তপস্যা ও ঈশ্বরভক্তি অনেক বড়। আত্মশুদ্ধির জন্য হিমালয়ের তীব্র শীতের মাঝে হাজার বছর ধরে এক পায়ে দাঁড়িয়ে ঘোর তপস্যা শুরু করলেন। তাঁর তপস্যার তীব্রতায় ত্রিভুবন কেঁপে উঠল। কুবেরের এই নিষ্ঠা দেখে দেবদেবীরা মুগ্ধ হলেন।
অবশেষে, কুবেরের তপস্যায় সন্তুষ্ট হয়ে স্বয়ং পরমপিতা ব্রহ্মা এবং মহাদেব শিব তাঁর সামনে আবির্ভূত হলেন। শিব কুবেরকে তাঁর পরম বন্ধু হিসেবে বুকে টেনে নিলেন। আর ব্রহ্মা কুবেরকে বললেন, "হে বিশ্রবার পুত্র, তোমার এই অসামান্য ত্যাগে আমি প্রীত হয়েছি। আজ থেকে তুমি দেবতাদের সমকক্ষ মর্যাদা লাভ করলে। তোমাকে আমি জগতের সমস্ত ধন-সম্পদ, সোনা-দানা এবং নিধি-ভাণ্ডারের পরম রক্ষক ও কোষাধ্যক্ষ ঘোষণা করছি।" একই সাথে, ব্রহ্মা পৃথিবীর সমস্ত জল, অরণ্য ও মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা গুপ্তধনের রক্ষাকারী সেই আদি শক্তিশালী যক্ষ, কিন্নর ও গুহ্যকদের পরম রাজা হিসেবে কুবেরকে অভিষিক্ত করলেন।
কিন্তু সৃষ্টির পরই এই জীবদের মধ্যে প্রবল ক্ষুধা ও এক অদ্ভুত অস্থিরতা দেখা দিল। তারা ব্রহ্মার দিকে তাকিয়ে হিংস্রভাবে চিৎকার করে উঠল। একদল বলল, "রক্ষাম!" (আমরা রক্ষা করব), আর অন্য দল বলল, "যক্ষাম!" (আমরা ভক্ষণ করব বা গ্রাস করব)। ব্রহ্মার আদেশ মেনে যারা মাটির নিচ ও প্রকৃতির সম্পদ রক্ষার দায়িত্ব গ্রহণ করল এবং তীব্র আসক্তি নিয়ে তা আঁকড়ে ধরে রইল, ব্রহ্মার মুখ নিঃসৃত সেই "যক্ষাম" শব্দ থেকেই তাদের নাম হয়ে গেল "যক্ষ"।
যক্ষরা সৃষ্টি হলো ঠিকই, কিন্তু তাদের কড়া শাসনে রাখার জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট রাজা ছিল না।
অবশেষে, কুবেরের তপস্যায় সন্তুষ্ট হয়ে স্বয়ং পরমপিতা ব্রহ্মা এবং মহাদেব শিব তাঁর সামনে আবির্ভূত হলেন। শিব কুবেরকে তাঁর পরম বন্ধু হিসেবে বুকে টেনে নিলেন। আর ব্রহ্মা কুবেরকে বললেন, "হে বিশ্রবার পুত্র, তোমার এই অসামান্য ত্যাগে আমি প্রীত হয়েছি। আজ থেকে তুমি দেবতাদের সমকক্ষ মর্যাদা লাভ করলে। তোমাকে আমি জগতের সমস্ত ধন-সম্পদ, সোনা-দানা এবং নিধি-ভাণ্ডারের পরম রক্ষক ও কোষাধ্যক্ষ ঘোষণা করছি।" একই সাথে, ব্রহ্মা পৃথিবীর সমস্ত জল, অরণ্য ও মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা গুপ্তধনের রক্ষাকারী সেই আদি শক্তিশালী যক্ষ, কিন্নর ও গুহ্যকদের পরম রাজা হিসেবে কুবেরকে অভিষিক্ত করলেন।

Comments
Post a Comment