Skip to main content

Posts

অনুবর্তন - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

অনুবর্তন ( Following ) - অন্যের দেখানো পথ, আদর্শ বা নিয়ম মেনে চলার প্রক্রিয়া। অনুবর্তন ( Conditioning ) -  মনোবিজ্ঞানে উদ্দীপকের প্রতি প্রাণীর স্বয়ংক্রিয় প্রতিক্রিয়া সৃষ্টির প্রক্রিয়া।   “যদি না পোষায়, মাই ডোর ইজ ওপন…” ছাত্ররা শিক্ষকের পদাঙ্ক অনুসরণ করবে, শিক্ষকদের আদর্শ অনুসরণ করে নিজেদের গড়ে তুলবে এটাই কাম্য। অনুবর্তন উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র ' মর্ডান ইন্সটিটিউট ' এর শিক্ষকরা। উপন্যাসটি জাতিকে পথ দেখানোর কারিগরদের জীবনালেখ্য। পক্ষান্তরে, একটি জাতির জীবনালেখ্য। 
Recent posts

আরোগ্য নিকেতন -তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

১। কাহিনী সংক্ষেপঃ   কবিরাজি পেশা জীবন দত্তদের তিনপুরুষের পেশা। দাদা দিনবন্ধু মশায় নাড়ি দেখে রোগের চিকিৎসা করতেন। পিতা জগদ্বন্ধু মশায় প্রতিষ্ঠা করেন আরোগ্য-নিকেতন। জীবনমশায় এর পুত্র ছিলেন পাশ করা ডাক্তার। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে মশায় পরিবার চিকিৎসাবিদ্যায় নিজেদেরকে এগিয়ে নিয়েছিল। জীবন মশায়  কবিরাজির সাথে ডাক্তারি ও জানতেন। আর একটা জিনিস জানতেন। রোগীর হাত দেখে তার মৃত্যুর সময় বলে দিতে পারতেন। যাকে গ্রামবাসীরা নিদান হাঁকা বলতো।  তরুন ডাক্তার প্রদ্যোত মিত্র নিদান হাঁকাকে কুসংস্কার অনেকক্ষেত্রে অমানবিক বলে মনে করতো। সে মতির মায়ের নিদান উলটে দিয়ে তাঁকে সুস্থ করে তুলে। তার চোখে জীবন মশায়ের মতো লোকেরা হাতুড়ে ডাক্তার। কুসংস্কারাচ্ছন্ন গ্রামবাসীদেরকে এইসব লোকেদের কাছে চিকিৎসা নিতে বারণ করে।   প্রবীণ জীবন মশায় নিজের অক্ষমতা মেনে তার কাছে আসা রোগীদেরকে প্রদ্যোত ডাক্তারের কাছে আধুনিক চিকিৎসা নিতে বলতেন।  ২। দ্বিতীয় শতাব্দীতে পশ্চিমা বিশ্বে একজন প্রবাদপ্রতিম চিকিৎসাবিদ ছিলেন। তাঁর নাম ছিল গ্যালেন। গ্রীসে জন্ম হলেও গ্যালেনের কর্মভূমি ছিল রোম। টানা কয়েক দশক ধরে রোমান সম্রাট...

কাজল - তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়

 

ডমরু-চরিত (১৯২৩) - ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়

ডমরু-চরিতে একজন মহাকৃপণ, ধূর্ত, অর্থলোভী, সুযোগ-সন্ধানী এবং তৎসহ প্রবঞ্চক অথচ বুদ্ধিমান, সাহসী, কার্যপটু ব্যক্তির চোখ দিয়ে জগৎ-দর্শন করিয়েছেন গ্রন্থকার। ডমরুধর শঠ, প্রবঞ্চক, ফন্দিবাজ - এক কথায় একটি ডার্ক ক্যারেক্টার। ব্যঙ্গের সঙ্গে উদ্ভট রসের আশ্চর্য মিশ্রণেই এই বইয়ের আসল মজা। আসলে যুগটাই ছিল ব্যঙ্গ রচনার অনুকূল। সবসময় সবরকম যুগ পরিবেশে ব্যঙ্গ সাহিত্যের উদ্ভব হয় না। একধরনের সংশয়বোধ, মানসিক দ্বিধা, চিন্তার দোদুল্যমানতা ব্যঙ্গ সাহিত্যের জন্ম দিয়ে থাকে। এ প্রসঙ্গে শিশিরকুমার দাস বলেছেনঃ সমাজে যখন ভাঙন আরম্ভ হয়, যখন স্থির অবিচলিত সত্যগুলি পরিবর্তনের স্রোতে ভেসে যেতে থাকে তখনই ব্যঙ্গের সূচনা। লেখক খুব সাধারণ, হাস্যরসাত্মক চালে গল্পগুলো বলা শুরু করেন, কিন্তু হঠাৎ হঠাৎ গল্পের ভেতরে এমন এক গভীর সামাজিক সত্য বা মানব চরিত্রের স্বার্থপরতার রূপ উন্মোচন করেন, যা পাঠককে একাধারে হাসায় এবং ভাবিয়ে তোলে। বইটিতে অন্যায়কারীর বয়ানে ঘটনাগুলোকে দেখানো হয়েছে। অপরাধী মনে করে সে যথেষ্ট উচিত কাজ করছে, তার দোষ ধরা কোনোভাবেই উচিত নয়। যার ফলে পাঠকের কাছে চরিত্রটির অসাড়তা ও মানবসমাজের স্বার্...

পাগলা দাশু - সুকুমার রায় চৌধুরী

 

দৃষ্টিপ্রদীপ - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

 

যকের ধন, আবার যখের ধন - হেমেন্দ্রকুমার রায়

  সৃষ্টির একেবারে শুরুর দিকে, জগৎসংসার সচল করতে ব্রহ্মা যখন মগ্ন হয়ে সৃষ্টির কাজ করছিলেন, তখন তিনি এক অদ্ভুত প্রকৃতির জীব সৃষ্টি করলেন। এরা দেখতে যেমন দিব্য ও জ্যোতির্ময় ছিল, তেমনই এদের শক্তি ছিল প্রবল। ব্রহ্মা এদের সৃষ্টি করার পর নির্দেশ দিলেন, "তোমরা বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের জলসম্পদ, গভীর অরণ্য এবং মাটির নিচের গোপন রত্নভাণ্ডার রক্ষা করবে।" কিন্তু সৃষ্টির পরই এই জীবদের মধ্যে প্রবল ক্ষুধা ও এক অদ্ভুত অস্থিরতা দেখা দিল। তারা ব্রহ্মার দিকে তাকিয়ে হিংস্রভাবে চিৎকার করে উঠল। একদল বলল, "রক্ষাম!" (আমরা রক্ষা করব), আর অন্য দল বলল, "যক্ষাম!" (আমরা ভক্ষণ করব বা গ্রাস করব)। ব্রহ্মার আদেশ মেনে যারা মাটির নিচ ও প্রকৃতির সম্পদ রক্ষার দায়িত্ব গ্রহণ করল এবং তীব্র আসক্তি নিয়ে তা আঁকড়ে ধরে রইল, ব্রহ্মার মুখ নিঃসৃত সেই "যক্ষাম" শব্দ থেকেই তাদের নাম হয়ে গেল "যক্ষ" । যক্ষরা সৃষ্টি হলো ঠিকই, কিন্তু তাদের কড়া শাসনে রাখার জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট রাজা ছিল না।  হিমালয়ের অতীব উঁচুতে, কৈলাস পর্বতের ঠিক পাশেই অবস্থিত এক স্বর্গীয় শহর— অলকাপুরী । বিশ্বকর্মা নিজে এই শহরটি ...