Skip to main content

গণিতের ইতিহাস ৩

 


" যথা শিখা ময়রাণাং নাগানাং মণয়ো যথা।
তদ্বদ্বেদাঙ্গশাস্ত্রাণাং গণিতং মূর্দ্ধনি স্থিতম।। "
অর্থাৎ, ময়ূরের মাথার শিখার মত, সাপের মাথার মণির মত,বেদাঙ্গ নামে অভিহিত সকল বিজ্ঞানের শীর্ষস্থানে গণিতের অবস্থিতি।
বৈদিক ঋষিগণ গণিত বলতে সাধারণত পাটীগণিত ও জ্যোতিষশাস্ত্রকে বুঝাতেন ; জ্যামিতি বা রেখা / ক্ষেত্র গণিত ছিলো কল্পসূত্রের অন্তর্ভুক্ত।
সকল প্রকার বিদ্যার মধ্যে গণিত যে শ্রেষ্ঠ বিদ্যা, বৈদিক সাহিত্যে এর উল্লেখ একাধিক স্থানে দেখা যায়।


1️⃣
ভারতীয় উপমহাদেশে দশভিত্তিক গণনা পদ্ধতির প্রচলন ছিলো। প্রাচীন ভারতীয়রা অনেক বড় বড় সংখ্যার নামকরণ করেছিল। গ্রীকরা ১০,০০০ কে বলতো এক মাইরিয়াড। এর থেকে বড় কোনো সংখ্যার নাম পাওয়া যায়না।
অন্যদিকে, ভারতীয় উপমহাদেশের গণিতজ্ঞরা ১০০০০০০০০০০০০ এরও একটি নাম দিয়েছিলেন।
১ এক
১০ দশ
১০০ শত
১০০০ সহস্র
১০০০০ অযুত
১০০০০০ নিযুয়
১০০০০০০ প্রযুত
১০০০০০০০ অর্বুদ
১০০০০০০০০ নার্বুদ
১০০০০০০০০০ সমুদ্র
১০০০০০০০০০০ মধ্য
১০০০০০০০০০০০ অন্ত
১০০০০০০০০০০০০ পরার্ধ
৫০০০০ কে বলা হয় পঞ্চাশৎ সমস্রম।
১১,১২,১৩,... কে যেমন একাদশ, দ্বাদশ, ত্রয়োদশ,... বলা হয়। ২১,২২,২৩,..,২৫...,৩১, ৩২,৩৩,.. ইত্যাদিরও এরুপ নাম আছে।
যেমন , ২১ হলো একোন - বিংশতি, ২৫ কে বলা হয় পঞ্চবিংশতি, ৩১ হলো একোন - ত্রিংশৎ।
2️⃣
বৈদিক যজ্ঞানুষ্ঠানের একটি অপরিহার্য অঙ্গ ছিলো বেদি নির্মান। বেদীসংক্রান্ত জ্যামিতিক সমস্যা থেকেই একঘাত, দ্বিঘাত সমীকরণ এর সাথে বৈদিক গণিতবিদদের পরিচয় ঘটে। জ্যামিতিক পদ্ধতিতে এইসব সমীকরণ এর সমাধান বের করা হতো। শুলবসূএ এবং বাখশালী পান্ডুলিপিতে এইধরনের কিছু উদাহরণ পাওয়া যায়।
যেমন, একঘাতের একটি উদাহরণ ছিলো,
" প্রথম রাশিটি অজ্ঞাত ; দ্বিতীয় রাশি প্রথম রাশির দ্বিগুণ ; তৃতীয় রাশি দ্বিতীয়ের তিনগুণ, চতুর্থ রাশি তৃতীয়টির চার গুণ ; এখন চারটি রাশির যোগফল ১৩২ হলে, প্রথম অজ্ঞাত রাশিটি কতো ? "
বৈদিক যজ্ঞানুষ্ঠানে 'মহাবেদী'র উল্লেখ পাওয়া যায়। এই মহাবেদী একটি সমদ্বিবাহু ট্রাপিজিয়াম।
এই সংক্রান্ত একটি সমস্যা ছিলো,
দুই সমান্তরাল বাহুর দৈর্ঘ্য ২৪,৩০ এবং উচ্চতা ৩৬। এই সমান্তরাল বাহুদ্বয় ও উচ্চতাকে সমান অনুপাতে বাড়ানো হলে ট্রাপিজিয়াম এর ক্ষেত্রফল বৃদ্ধির সাথে দৈর্ঘ্য বৃদ্ধির সম্পর্ক কী ?
বীজগণিতের ভাষায়,
36x × (24x + 30x)/2 = 36 × (24+30)/2 + m
Or, 972x^2 = 972 + m
যা একটি দ্বিঘাত সমীকরণ।
শতপথ ব্রাহ্মণে m এর কতগুলো বিশেষ মান ধরে এরুপ দ্বিঘাত সমীকরণ এর সমাধান বের করা হয়েছে।

Comments

Popular posts from this blog

শুন্য কিভাবে এলো

 অন্য সব সংখ্যার মতোই শুন্য এর উৎপত্তি কবে থেকে সেটা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শুন্য ছাড়া এই উপমহাদেশের (hindu numerals) সংখ্যা পদ্ধতির সাথে অন্য সংখ্যা পদ্ধতির পার্থক্য সামান্য। অন্য সংখ্যার সাথে শুন্য এর প্রধান পার্থক্য এর স্থানিক মানে। ভারতীয় উপমহাদেশে শুন্য এর সবচেয়ে প্রাচীন এবং নির্ভরযোগ্য নিদর্শন পাওয়া যায় ৮৭৬ সালের এক শিলালিপিতে। গোয়ালিয়রে প্রাপ্ত এই শিলালিপিতে ৫০ এবং ২৭০ সংখ্যা দুটি লিখা ছিল শুন্য ব্যবহার করে। তবে শুন্য এর ইতিহাস আরও প্রাচীন। ব্যাবিলনীয়রা সংখ্যার অনুপস্থিতি নির্দেশ করার জন্য আলাদা চিহ্ন ব্যবহার করত। তবে বর্তমানে আমরা যে কাজে শুন্য ব্যাবহার করে থাকি, ব্যাবিলনীয় সংখ্যা পদ্ধতিতে তার কোনো ব্যবহার ছিলো না। গ্রিক পান্ডুলিপিতে স্থানিক মানের কিছু ব্যবহার দেখা যায়। ডিওফ্যান্টাস এর কাজে স্থানিক মানের প্রমান মিলে।  গ্রিকরা ওমিক্রন (O) চিহ্ন দ্বারা গর্ত নির্দেশ করতো। ব্রাক্ষ্মি লিপিতে শিং বিশিষ্ট একধরনের বৃত্তের(ছবি দ্রষ্টব্য) ব্যবহার দেখা যায়। যা ১০ নির্দেশ করতো। এই উপমহাদেশে ব্যবহৃত শুন্যের (০) সাথে আরবরা ৫ লেখার জন্য যে চিহ্ন ব্যাবহার করতো তার মিল ছিল। ...

কার্ল ফ্রিডরিখ গাউস

 ল্যাপ্লাসকে যখন প্রশ্ন করা হতো জার্মানির সেরা গণিতবিদ কে ? , তার একটাই উত্তর ছিলো, ফ্যাফ(pfaff)। গাউস কে বাদ দিয়ে ফ্যাফ এর নাম শুনতে হবে এটা কোনো প্রশ্নকর্তা ই আশা করতেন না।  তারা যখন তাকে পুনরায় প্রশ্ন করতেন, তাহলে গাউস কী ?  ল্যাপ্লাসের উত্তর ছিলো, আরে ও তো ইউরোপের সেরা।   মর্ডান অ্যানালাইসিস এ সেরা তিনজনের ( ল্যাগ্রাঞ্জ, ল্যাপ্লাস,গাউস) একজন হলেন গাউস । গাউস ছিলেন এদের মধ্যে সবচেয়ে ছোট । তবে, গাউস এর কাজের মাধ্যমেই গণিতের নতুন যুগের সূচনা হয়েছিল ।  নতুন আবিস্কারের নেশা এবং সক্ষমতায় তিনি তার পূর্ববর্তী গণিতবিদদেরকে ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন। প্রমাণ এবং যথাযথ উপস্থাপনে একমাত্র গ্রিকদের সাথেই কেবল তার তুলনা চলে ।  মাত্র বিশ বছর বয়সেই উচ্চতর গণিতের পুরানো সব তত্ত্বকে  নতুন করে ব্যাখ্যা করেন এবং নতুন প্রমাণ পদ্ধতির মাধ্যমে সেগুলোকে সকলের সামনে তুলে ধরেন।  উপস্থাপনের সাবলীলতায় তিনি ল্যাপ্লাস এবং ল্যাগ্রাঞ্জকে ও ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন। তিনিই প্রথম ইনফিনিট সিরিজ(পূর্ণাঙ্গরুপে), ইলিপটিক ফাংশন এর ডাবল পিরিওডিসিটি,লিস্ট স্কয়ার মেথড, ডিটারমিনেন্ট এর সিস্টেমেটিক ব্যবহার...

লিওনার্দ অয়লার

 রাজা চতুর্দশ লুই এর সময় পার করে ইউরোপের গণিতের পতাকা এখন ফরাসিদের হাতে।  অন্যদিকে নিউটন আর লিবনিজ এর মৃত্যুর পরে ব্রিটেন আর জার্মানিতে গণিতের প্রদিপ নিভু নিভু করছে।   ১৭৩০ - ১৮২০ এই নব্বই বছর সময় হলো ফরাসি এবং সুইস গণিতের স্বর্ণযুগ যুগ।  এই সময় ফ্রান্সের ছিলো ল্যাগ্রাঞ্জ, ল্যাপ্লাস,লিজেন্ডার, মনগে। আর সুইজারল্যান্ডের ছিলো অয়লার।   বের্নুলি পরিবারের কারণে বাসেল এর নাম তখন গণিতবিদদের মুখে মুখে।  অন্যদিকে অয়লার এর কারণে তার সম্মান দ্বিগুণ হয়েছে।   অয়লার এর পিতা ছিলেন একজন যাজক।  তিনি জ্যাক বের্নুলির কাছে শিক্ষাগ্রহণ করেছেন।  মুলত, পিতার আগ্রহেই অয়লারের গণিতের জগতে প্রবেশ। ইউনিভার্সিটি অব বাসেলে পড়ার সময় জন বের্নুলি ছিলেন অয়লার এর শিক্ষক।   মাত্র উনিশ বছর বয়সে জাহাজের মাস্তল নিয়ে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করে ফরাসি বিজ্ঞান একাডেমির কাছ থেকে পুরস্কৃত হন।  ১৭২৭ সালে জন বের্নুলির দুই ছেলে ড্যানিয়েল এবং নিকোলাস বের্নুলি  অনুরোধে  রাশিয়ার রানি ক্যাথরিন  অয়লারকে সেন্ট পিটার্সবার্গে আমন্ত্রণ জানান।  ১৭৩৫ স...