Posts

Showing posts from November, 2020

এভারিস্ত গ্যালোয়া

গণিতবিদরা রোমান্টিক হয়না ! এই বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করলে কবি, সাহিত্যিক হওয়া যায়না !   আজকে আমি এমন দুইজন ব্যাক্তির উদাহরণ আপনাদের সামনে হাজির করবো যারা ছিলেন স্বীকৃত গণিতবিদ। কিন্তু, উপরের দুইটি স্টেটমেন্ট তাদের জন্য প্রযোজ্য নয়।  একজন হলেন উমর খৈয়াম, যাকে আপনারা কবি হিসেবে চিনে থাকবেন। কিন্তু, তিনি ছিলেন শখের কবি। যেমন ভিঞ্চি ছিলেন শখের চিত্রকর। অন্যজন হলেন, এভারিস্ট গ্যালোয়া।  "রুটি মদ ফুরিয়ে যাবে প্রিয়ার কালো চোখ ঘোলাটে হয়ে যাবে বই, সেতো অনন্ত যৌবনা।"  পারস্যের কবি উমর খৈয়ামের এই কবিতাটির সাথে আপনারা সবাই পরিচিত। তার আরেকটি বিখ্যাত উক্তি হলো -   " তোমার হৃদয়ে যেদিন ভালোবাসা থাকবে না, সে দিনটাই অপচয় হলো। "  গ্যালোয়া আরও একধাপ এগিয়ে বললেন, প্রেমিকাকে না পেলে এ জীবন রেখে লাভ নাই।  প্রেমিকাকে পাওয়ার জন্য তিনি গুলি ছাড়া বন্দুক নিয়ে লড়াইয়ে নেমে পড়লেন। যা হওয়ার তাই হলো। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় । ওই অবস্থায় ৩১ মে, ১৮৩২ সালে মারা যান।   মৃত্যুর সময় তার শয্যা পাশে ছিলো তার ছোটো ভাই আলফ্রেড। মৃত্যুর সময় তার বয়...

গণিতের ইতিহাস ৪

Image
  'চিউ-চ্যাং সুয়ান-শু' যার বাংলা অর্থ 'নয় খন্ডে পাটীগণিত '।এটি চীনদেশের প্রাচীনতম গণিত গ্রন্থ।ধারণা করা হয় এর রচনাকাল খ্রীস্টপূর্ব ২৭০০ থেকে ২৬০০ অব্দের মধ্যে। কে বা কারা এর রচয়িতা সে সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। খ্রীস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতকে চ্যাং সাং নামের একজন চাইনিজ গণিতবিদ এর একটি প্রতিলিপি তৈরি করেন। যেটি বর্তমানে সংরক্ষিত আছে। প্রাচীন গণিত সম্পর্কে জানার জন্য 'চিউ-চ্যাং সুয়ান-শু' একটি অতি মূল্যবান গ্রন্থ । এর নয়টি খন্ডে, ১) ক্ষেত্র জ্যামিতি, ভগ্নাংশ ২)রুল অব থ্রি ৩) পার্টনারশিপ ৪)বর্গ এবং ঘণমূল নির্ণয় ৫) ঘন জ্যামিতি ৬) অ্যালিগেশন বা মিশ্রণ ৭) লাভ - ক্ষতি ৮) একঘাত সমীকরণ এবং ৯) পীথাগোরিয়ান ট্রিপলেট নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। প্রাচীনকালে চীনারা পাই এর মান ৩ ধরে বৃত্তের ক্ষেত্রফল নির্ণয় করতো। ঘণ জ্যামিতি অংশে প্রিজম, সিলিন্ডার, কোণ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। চ্যাং সাং এর পরে উল্লেখযোগ্য চীনা গণিতবিদ হলেন সান-ৎজু । তার রচিত গ্রন্থের নাম ' সান-ৎজু সুয়ান-চিং' বা 'সান-ৎজু র পাটীগণিত '। এটি তিন খণ্ডে বিভক্ত। এই গ্রন্থে অনির্ণেয় সমীকরণ, সংখ্যাতত্ত্ব, পরিমা...

গণিতের ইতিহাস ৩

Image
  " যথা শিখা ময়রাণাং নাগানাং মণয়ো যথা। তদ্বদ্বেদাঙ্গশাস্ত্রাণাং গণিতং মূর্দ্ধনি স্থিতম।। " অর্থাৎ, ময়ূরের মাথার শিখার মত, সাপের মাথার মণির মত,বেদাঙ্গ নামে অভিহিত সকল বিজ্ঞানের শীর্ষস্থানে গণিতের অবস্থিতি। বৈদিক ঋষিগণ গণিত বলতে সাধারণত পাটীগণিত ও জ্যোতিষশাস্ত্রকে বুঝাতেন ; জ্যামিতি বা রেখা / ক্ষেত্র গণিত ছিলো কল্পসূত্রের অন্তর্ভুক্ত। সকল প্রকার বিদ্যার মধ্যে গণিত যে শ্রেষ্ঠ বিদ্যা, বৈদিক সাহিত্যে এর উল্লেখ একাধিক স্থানে দেখা যায়। ভারতীয় উপমহাদেশে দশভিত্তিক গণনা পদ্ধতির প্রচলন ছিলো। প্রাচীন ভারতীয়রা অনেক বড় বড় সংখ্যার নামকরণ করেছিল। গ্রীকরা ১০,০০০ কে বলতো এক মাইরিয়াড। এর থেকে বড় কোনো সংখ্যার নাম পাওয়া যায়না। অন্যদিকে, ভারতীয় উপমহাদেশের গণিতজ্ঞরা ১০০০০০০০০০০০০ এরও একটি নাম দিয়েছিলেন। ১ এক ১০ দশ ১০০ শত ১০০০ সহস্র ১০০০০ অযুত ১০০০০০ নিযুয় ১০০০০০০ প্রযুত ১০০০০০০০ অর্বুদ ১০০০০০০০০ নার্বুদ ১০০০০০০০০০ সমুদ্র ১০০০০০০০০০০ মধ্য ১০০০০০০০০০০০ অন্ত ১০০০০০০০০০০০০ পরার্ধ ৫০০০০ কে বলা হয় পঞ্চাশৎ সমস্রম। ১১,১২,১৩,... কে যেমন একাদশ, দ্বাদশ, ত্রয়োদশ,... বলা হয়। ২১,২২,২৩,..,২৫...,...

গণিতের ইতিহাস ২

Image
  জোসেফাস্ এর মতে, মিশরীয়রা আব্রাহামের কাছ থেকে পাটীগণিতের জ্ঞান লাভ করে। পরবর্তীতে গ্রিকরা মিশরীয়দের কাছ থেকে গণিতের জ্ঞান লাভ করে। phoedrus এ প্লেটো বলেছেন, " মিশরের নক্রেটিস শহরে এক বৃদ্ধ দেবতা বাস করতেন ; দেবতার নাম ছিলো থট। আইবিস্ পাখি ছিলো তার প্রতীক। পাটীগণিত, গণনা, জ্যামিতি, দাবা খেলা প্রভৃতির দেবতা তিনি। তবে, তার সর্বশ্রেষ্ঠ দান হলো অক্ষরের ব্যবহার। " হেরোডটাস বলেন, রাজস্ব আদায়ের সুবিধার জন্য মিশরের রাজারা চতুষ্কোণ করে কাটা জমি প্রজাদের মধ্যে ভাগ করে দিতেন। নীলনদের ভাংগনে জমির যতটুকু অংশ বিলীন হয়ে যেতো ততটুকু পরিমান খাজনা মওকুফ করা হতো। রিন্ড প্যাপিরাসের একটি অংশ হলো আহেমস প্যাপিরাস। খ্রীস্টপূর্ব ১৬৫০ অব্দে আহেম নামের জনৈক পুরোহিত এটি সংকলন করেন । মিশরীয়রা দশ ভিত্তিক সংখ্যা পদ্ধতি ব্যবহার করতো। | দ্বারা ১ নির্দেশ করতো। দ্বারা ১০০,০০০ নির্দেশ করতো। দ্বারা ১,০০০,০০০ নির্দেশ করতো। দ্বারা ১০,০০,০০০ নির্দেশ করতো। এগুলো হায়ারোগ্লিফিক নামে পরিচিত। এর থেকে বুঝা যায় মিশরীয়রা বৃহৎ সংখ্যা সম্পর্কে ধারণা রাখতো। আহেমস প্যাপিরাসে সমান্তর ও গুণোত্তর ধারার ক...

গণিতের ইতিহাস ১

Image
  গণিত এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানের আবির্ভাবের সাথে কৃষিকাজের সম্পর্ক নিবিড়। কৃষিকাজের সাথে ঋতু পরিবর্তনের রয়েছে গভীর সম্পর্ক। গণনা পদ্ধতিতে যথেষ্ট পারদর্শী না হলে ঋতুপরিবর্তন সহ অন্যান্য প্রাকৃতিক ঘটনার যথাযথ হিসাব রাখা সম্ভব নয়। খ্রিস্টের জন্মের ৫৫০০ বছর পূর্বে সুমেরীয়রা প্রথম কৃষিকাজ শুরু করে। তারও প্রায় ১০০০ বছর পরে তারা বছর গণনা শুরু করে। বছরের প্রথম মাসের নাম রাখে বৃষ। সূর্যের অবস্থান ছিলো তখন বৃষ তারা মন্ডলে। শহর নির্মানে এবং সেচ কাজে প্রাচীন ব্যাবিলনীয়, মিশরীয় এবং ভারতীয়দের আশ্চর্য নৈপুণ্যের প্রমাণ আজও বিদ্যমান। গাণিতিক জ্ঞান ছাড়া এই ধরনের কাজ এতো নিপুণভাবে করা সম্ভব নয়। ব্যবসা বানিজ্যের প্রসারে গণিতের রয়েছে অসামান্য অবদান। সুমের, এলাম, মহেঞ্জোদারো, হরপ্পা প্রভৃতি শত সহস্র মাইল ব্যবধানে অবস্থিত নানা জনপদের মধ্যে বানিজ্য সম্ভব হয়েছিল পাটিগণিতের ব্যবহারের মাধ্যমে। ব্যাবিলনীয়রা নরম মাটির চাকতির উপরে বিভিন্ন ধরনের হিসাব নিকাশ, গাণিতিক পদ্ধতি লিখে রাখতো। পরে চাকতিগুলোকে আগুনের তাপে পুড়িয়ে সংরক্ষণ করতো। ব্যাবিলনীয় লিপিকে বলা হতো কিউনিফর্ম। অসূরবনিপালের (খ্রীস্টপূর্ব ৬২৬) গ্র...