Skip to main content

কার্ল ফ্রিডরিখ গাউস

 ল্যাপ্লাসকে যখন প্রশ্ন করা হতো জার্মানির সেরা গণিতবিদ কে ? , তার একটাই উত্তর ছিলো, ফ্যাফ(pfaff)। গাউস কে বাদ দিয়ে ফ্যাফ এর নাম শুনতে হবে এটা কোনো প্রশ্নকর্তা ই আশা করতেন না।  তারা যখন তাকে পুনরায় প্রশ্ন করতেন, তাহলে গাউস কী ?  ল্যাপ্লাসের উত্তর ছিলো, আরে ও তো ইউরোপের সেরা।


 
মর্ডান অ্যানালাইসিস এ সেরা তিনজনের ( ল্যাগ্রাঞ্জ, ল্যাপ্লাস,গাউস) একজন হলেন গাউস । গাউস ছিলেন এদের মধ্যে সবচেয়ে ছোট । তবে, গাউস এর কাজের মাধ্যমেই গণিতের নতুন যুগের সূচনা হয়েছিল । 
নতুন আবিস্কারের নেশা এবং সক্ষমতায় তিনি তার পূর্ববর্তী গণিতবিদদেরকে ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন। প্রমাণ এবং যথাযথ উপস্থাপনে একমাত্র গ্রিকদের সাথেই কেবল তার তুলনা চলে । 



মাত্র বিশ বছর বয়সেই উচ্চতর গণিতের পুরানো সব তত্ত্বকে  নতুন করে ব্যাখ্যা করেন এবং নতুন প্রমাণ পদ্ধতির মাধ্যমে সেগুলোকে সকলের সামনে তুলে ধরেন।  উপস্থাপনের সাবলীলতায় তিনি ল্যাপ্লাস এবং ল্যাগ্রাঞ্জকে ও ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন।



তিনিই প্রথম ইনফিনিট সিরিজ(পূর্ণাঙ্গরুপে), ইলিপটিক ফাংশন এর ডাবল পিরিওডিসিটি,লিস্ট স্কয়ার মেথড, ডিটারমিনেন্ট এর সিস্টেমেটিক ব্যবহার সবার সামনে তুলে ধরেন। 



গাউস এর জন্ম ব্রন্সউইক, জার্মানি। তার বাবা ছিলেন রাজমিস্ত্রী।  গাউস এর ১ থেকে ১০০ পর্যন্ত গণনার গল্পতো আমরা সবাই জানি।  গাউসের শিক্ষক বার্টেল গাউসের গণিতের দক্ষতাকে  ব্রন্সউইক এর ডিউক চার্লস উইলিয়াম এর নজরে আনেন।  ডিউকের সহায়তায় তিনি কলেজিয়াম ক্যারোলিনামে ভর্তি হন। 



" আমি কথা বলতে শেখার আগে গুণতে শিখেছি। "
     
  - গাউস



গাউস ভাষাতত্ত্বে সমান পারদর্শী ছিলেন।  ১৭৯৫ সালে তিনি গটিনজেনে যান।  তখনও তিনি নিশ্চিত ছিলেননা ভাষাতত্ত্ব না কি গণিত নিয়ে পড়বেন।  আব্রাহাম কাস্টনার এর গণিত পড়ানো তার ভালো লাগতো না।  ১৯  বছর বয়সে সতেরো ভুজের রেগুলার পলিগনকে  বৃত্তস্থ করার এক পদ্ধতি তিনি নিজে নিজে আবিষ্কার করেন।  যা গণিতের প্রতি তাকে আগ্রহী করে তুলে। 



সংখ্যাতত্ত্ব ছিলো তার প্রিয় বিষয়।  তিনি বলেন, 
" Mathematics, the Queen of science, and arithmetic, the Queen of mathematics. "


গটিনজেনে থাকাকালে বলিয়ার সাথে তার বন্ধুত্ব হয়।


 ১৮০৭ সালে রাশিয়ার সম্রাট তাকে সেন্ট পিটার্সবার্গের একাডেমির দায়িত্ব নেয়ার অনুরোধ করেন।  কিন্তু, ওলবের এর পরামর্শে তিনি গটিনজেনে যোগদান করেন। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি গটিনজেন ছেড়ে কোথাও যাননি ; শুধুমাত্র    গণিত সম্মেলনে যোগ দিতে ১৮২৮ সালে বার্লিনে যান।  দৃঢচেতা মনোভাব,প্রখর আত্নসম্মানবোধ এবং শিশু সুলভ সারল্যের অধিকারী ছিলেন। 



১৮০১ সালে তার ' ডিসকাশনেস এরিথমেটিকা'  প্রকাশিত হলে নাম্বার থিওরির নতুন যুগের সূচনা হয়। এর কাজ শুরু করেছিলেন ১৭৯৫ সালে।  এর কিছু অংশ নিয়ে ল্যাগ্রাঞ্জ এবং অয়লার পূর্বেই কাজ করেছিলেন।  তবে,  গাউস তাদের কাজের সাথে তখনও পরিচিত হননি।  


লিজেন্ডারের ' থিওরে দেস নম্ব্রেস ' আর গাউসের
 ' ডিসকাশনেস এরিথমেটিকা' প্রায় একই সময়ের।  তবে,  গাউসেরটা আগে প্রকাশিত হয়।  


মাত্র ১৮ বছর বয়সে তিনি মেথড অব ইনডাকশন এর মাধ্যমে  ল অব কোয়াড্রেটিক রেসিপ্রসিটি ( কোয়াড্রেটিক রেসিডিউ থিওরি'র )  আবিষ্কার করেন এবং ১৯ বয়সে তা প্রমাণ করেন। অয়লার এবং লেজান্ডার ও এটা প্রমানের চেস্টা করেছিলেন। কিন্তু, সফল হননি। তিনি এর আরও পাচটি প্রমাণ উপস্থাপন করেন।  


 পরবর্তীতে, জ্যাকোবি,আইন্সটাইন,ল্যুভেলি,
লেবেসগিউ,কুমার,জিনোচ্চি,স্টার্ন ,জিলার ,ক্রনেকার ,   বোনিকস্কি,স্রিং,পেটারসেন,ভ্যেট,বুসে, পেপিন এর নতুন নতুন প্রমান উপস্থাপন করেন। 



তিনি কংগ্রুয়েন্স থিওরীর মাধ্যমে সংখ্যাকে বাইনারি কোয়াড্রেটিক ফরমে উপস্থাপন করার নতুন পদ্ধতি উপস্থাপন করেন। 


মোবিয়াস ছিলেন গাউস এর ছাত্র। 


অনেক গণিতবিদদের গবেষণায় হাতেখড়ি হয়েছে সংখ্যাতত্ত্ব নিয়ে গাউসের লিখিত গবেষণাপত্রের মাধ্যমে। জ্যাকোবি তাদের মধ্যে অগ্রগন্য।

Comments

Popular posts from this blog

ডমরু-চরিত (১৯২৩) - ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়

ডমরু-চরিতে একজন মহাকৃপণ, ধূর্ত, অর্থলোভী, সুযোগ-সন্ধানী এবং তৎসহ প্রবঞ্চক অথচ বুদ্ধিমান, সাহসী, কার্যপটু ব্যক্তির চোখ দিয়ে জগৎ-দর্শন করিয়েছেন গ্রন্থকার। ডমরুধর শঠ, প্রবঞ্চক, ফন্দিবাজ - এক কথায় একটি ডার্ক ক্যারেক্টার। ব্যঙ্গের সঙ্গে উদ্ভট রসের আশ্চর্য মিশ্রণেই এই বইয়ের আসল মজা। আসলে যুগটাই ছিল ব্যঙ্গ রচনার অনুকূল। সবসময় সবরকম যুগ পরিবেশে ব্যঙ্গ সাহিত্যের উদ্ভব হয় না। একধরনের সংশয়বোধ, মানসিক দ্বিধা, চিন্তার দোদুল্যমানতা ব্যঙ্গ সাহিত্যের জন্ম দিয়ে থাকে। এ প্রসঙ্গে শিশিরকুমার দাস বলেছেনঃ সমাজে যখন ভাঙন আরম্ভ হয়, যখন স্থির অবিচলিত সত্যগুলি পরিবর্তনের স্রোতে ভেসে যেতে থাকে তখনই ব্যঙ্গের সূচনা। লেখক খুব সাধারণ, হাস্যরসাত্মক চালে গল্পগুলো বলা শুরু করেন, কিন্তু হঠাৎ হঠাৎ গল্পের ভেতরে এমন এক গভীর সামাজিক সত্য বা মানব চরিত্রের স্বার্থপরতার রূপ উন্মোচন করেন, যা পাঠককে একাধারে হাসায় এবং ভাবিয়ে তোলে। বইটিতে অন্যায়কারীর বয়ানে ঘটনাগুলোকে দেখানো হয়েছে। অপরাধী মনে করে সে যথেষ্ট উচিত কাজ করছে, তার দোষ ধরা কোনোভাবেই উচিত নয়। যার ফলে পাঠকের কাছে চরিত্রটির অসাড়তা ও মানবসমাজের স্বার্...

ফিল্ডস মেডাল

 MIT এর জেনিটর উইল হান্টিং এর কথা মনে আছে । যে গণিত বিভাগের  নোটিশ বোর্ডে ঝুলিয়ে রাখা কঠিন কঠিন গাণিতিক সমস্যা গুলোর সমাধান লুকিয়ে লুকিয়ে  করে দিয়ে যেতো । আর, প্রফেসর জেরাল্ড খুঁজে বের করার চেষ্টা করতেন কে এই জিনিয়াস । 'গুড উইল হান্টিং' সিনেমায় প্রফেসর জেরাল্ড  "ফিল্ডস মেডাল " জয় করেন। যদিও সিনেমায় তার বয়স কোনক্রমেই চল্লিশের কম মনে হয়নি ।  গণিতে অবদানের স্বীকৃতি স্বরুপ এবং ভবিষ্যতে গবেষককে গবেষণা কাজে আরও উৎসাহিত করতে এই পুরস্কার প্রদান করা হয় । চার বছর পর পর  পুরস্কার প্রদান করা হয় । একবারে কমপক্ষে দুইজন এবং  সর্বোচ্চ চারজনকে এই পুরস্কার দেয়া হয়। যে বছর পুরস্কার দেয়া হবে ঐ বছরের জানুয়ারির ১ তারিখে বয়স অনধিক চল্লিশ হতে হবে।  পুরস্কারের অর্থমূল্য ১৫০০০ কানাডিয়ান ডলার।  এর সাথে  ৫,৫০০ কানাডিয়ান ডলার মূল্যের একটি স্বর্ণপদক প্রদান করা হয় ।  প্রতি চার বছর অন্তর অন্তর IMU এর কংগ্রেসের শুরুর দিনে ফিল্ডস মেডাল প্রদান করা হয়।  গণিতবিদ জে সি ফিল্ডস এর নাম অনুসারে একে ফিল্ডস মেডাল বলা হলেও, এর অফিসিয়াল নাম, "International medals for outst...