Skip to main content

গণিতের স্কুল-৫

 ইউক্লিড এর সঠিক জন্মসাল না জানা গেলেও, প্রকলাস এর ইউডেমিয়ান সামারি থেকে জানা যায়, তিনি ছিলেন ইরাটোস্থিনিস এর থেকে বড় এবং তার বেশিরভাগ কাজই তিনি করেছেন প্রথম টলেমীর শাসনামলে । টলেমি(|) আলেকজান্দ্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর গণিতের স্কুল এর দায়িত্ব নেয়ার জন্য ইউক্লিডকে আমন্ত্রণ জানান। পপাস এর বর্ণনা অনুযায়ী, ইউক্লিড ছিলেন বিনয়ী এবং নম্র স্বভাবের। গণিতের জন্য যে কোনো ধরনের ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত ছিলেন।

রাজা টলেমি তাকে একবার জিজ্ঞেস করেছিলেন, ইলিমেন্টস না পড়ে গণিত শেখার কোনো সহজ উপায় আছে কিনা।  ইউক্লিড বিরক্তির সাথে জবাব দিয়েছিলেন,

" There is no royal road to geometry."

ইউক্লিডের ছাত্র একবার ইউক্লিডকে প্রশ্ন করলো, গুরু গণিত পড়ে আমার কি লাভ হবে ?
ইউক্লিড তার হাতে তিনটি পয়সা ধরিয়ে দিয়ে বললেন, এই নাও তোমার লাভ।

যদিও অনেকে মনে করেন, ইলিমেন্টস এর পুরোটাই ইউক্লিড এর রচনা ; তবে, এই ধারনাটি সঠিক নয়। কেবলমাত্র 'পীথাগোরাসের উপপাদ্য' এর প্রমানটিই শুধুমাত্র তার নিজের। 

ইলিমেন্টস এর প্রথম, দ্বিতীয় এবং চতুর্থ ভাগ এর রচয়িতা হলো পীথাগোরিয়ানরা। ষষ্ঠ ভাগ এর রচয়িতা ইউডক্সাস এবং পীথাগোরাস।  এছাড়া অমুলদ সংখ্যা এবং বারোতম ভাগের মেথড অব এক্সশন এর অংশের রচয়িতাও ইউডক্সাস।  দশম ভাগ এবং তেরোতম ভাগের প্রায় পুরোটাই থিয়েস্টাস এর অবদান। ইউক্লিড ছিলেন তার সময়ের শ্রেষ্ঠতম সংকলক।

গ্রিকরা তাকে the author of elements নামে ডাকে । কারণ, গণিতবিদ ইউক্লিড ছাড়াও আরও একজন বিখ্যাত ইউক্লিড ছিলেন। 

ইউক্লিড কিন্তু তার সময় পর্যন্ত সকল উপপাদ্যকে ইলিমেন্টস এ অন্তর্ভুক্ত করেননি। এ কথা ইউক্লিড নিজেই বলেছেন। বর্তমানে ইলিমেন্টস এর  বহুল ব্যবহৃত সংস্করণটি হাইপেশিয়ার বাবা থিওন অব আলেকজান্দ্রিয়ার।  তিনি ইউক্লিড এর ৭০০ বছর পরে ইলিমেন্টস এর কিছুটা ভাষাগত পরিবর্তন করে এটি প্রকাশ করেন।

ইলিমেন্টস এর তেরোটি খন্ড। যার মধ্যে দুটি খন্ডের রচয়িতা হিপিস্কালিস এবং ডেমাস্কিয়াস।

প্রথম চারটি ভাগে প্লেন জিওমেট্রী নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

পঞ্চম ভাগে অনুপাত নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

ষষ্ঠ ভাগে সর্বসমতা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। 

সপ্তম,অষ্টম এবং নবম ভাগে সংখ্যাতত্ত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। অসীম সংখ্যক মৌলিক সংখ্যার প্রমাণটি নবম ভাগে পাওয়া যাবে।

দশম ভাগে অমুলদ/ ইনকমেন্সারিবল নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

বাকি তিনটি অংশে ঘণজ্যামিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

ইলিমেন্টস এর শুরুতেই আছে বিন্দু,সরলরেখা প্রভৃতির সংজ্ঞা।

আশ্চর্যের কথা হলো, আর্কিমিডিসের পূর্ব পর্যন্ত গ্রিকদের পরিমিতি সম্পর্কে ধারণা ছিলো না । ইউক্লিড এর ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হয়নি।  ত্রিভুজের ক্ষেত্রফল  যে হাফ ইনটু ভূমি ইনটু উচ্চতা সেটা তার অজানা ছিলো।

ইউক্লিড কিন্তু শুধু  ইলিমেন্টস এরই রচয়িতা নন। তিনি ডাটা,ফেনোমেনা,অপটিকস, কাটোপট্রিকা, পরিজম সহ আরও কয়েকটি গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। ইলিমেন্টস যারা দক্ষতা অর্জন করতেন তাদের জন্য পাঠ্য ছিলো ডাটা । অ্যানালাইসিস এর অনুশীলন করার জন্য তিনি এটি রচনা করেন।

ইউক্লিড নিজে প্লেটোর দর্শনের অনুসারী ছিলেন।  আর তার অনুসারীরাও যে প্লেটোর দর্শনের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল  তার একটি প্রমাণ পাওয়া তখনকার স্কুল গুলো র দরজায় ঝোলানো নোটিশ বোর্ডের থেকে।  যেখানে লিখা থাকতো -

" যে ইলিমেন্টস পড়ে নাই তার স্কুলে আসার দরকার নাই।"

Comments

Popular posts from this blog

ডমরু-চরিত (১৯২৩) - ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়

ডমরু-চরিতে একজন মহাকৃপণ, ধূর্ত, অর্থলোভী, সুযোগ-সন্ধানী এবং তৎসহ প্রবঞ্চক অথচ বুদ্ধিমান, সাহসী, কার্যপটু ব্যক্তির চোখ দিয়ে জগৎ-দর্শন করিয়েছেন গ্রন্থকার। ডমরুধর শঠ, প্রবঞ্চক, ফন্দিবাজ - এক কথায় একটি ডার্ক ক্যারেক্টার। ব্যঙ্গের সঙ্গে উদ্ভট রসের আশ্চর্য মিশ্রণেই এই বইয়ের আসল মজা। আসলে যুগটাই ছিল ব্যঙ্গ রচনার অনুকূল। সবসময় সবরকম যুগ পরিবেশে ব্যঙ্গ সাহিত্যের উদ্ভব হয় না। একধরনের সংশয়বোধ, মানসিক দ্বিধা, চিন্তার দোদুল্যমানতা ব্যঙ্গ সাহিত্যের জন্ম দিয়ে থাকে। এ প্রসঙ্গে শিশিরকুমার দাস বলেছেনঃ সমাজে যখন ভাঙন আরম্ভ হয়, যখন স্থির অবিচলিত সত্যগুলি পরিবর্তনের স্রোতে ভেসে যেতে থাকে তখনই ব্যঙ্গের সূচনা। লেখক খুব সাধারণ, হাস্যরসাত্মক চালে গল্পগুলো বলা শুরু করেন, কিন্তু হঠাৎ হঠাৎ গল্পের ভেতরে এমন এক গভীর সামাজিক সত্য বা মানব চরিত্রের স্বার্থপরতার রূপ উন্মোচন করেন, যা পাঠককে একাধারে হাসায় এবং ভাবিয়ে তোলে। বইটিতে অন্যায়কারীর বয়ানে ঘটনাগুলোকে দেখানো হয়েছে। অপরাধী মনে করে সে যথেষ্ট উচিত কাজ করছে, তার দোষ ধরা কোনোভাবেই উচিত নয়। যার ফলে পাঠকের কাছে চরিত্রটির অসাড়তা ও মানবসমাজের স্বার্...

কার্ল ফ্রিডরিখ গাউস

 ল্যাপ্লাসকে যখন প্রশ্ন করা হতো জার্মানির সেরা গণিতবিদ কে ? , তার একটাই উত্তর ছিলো, ফ্যাফ(pfaff)। গাউস কে বাদ দিয়ে ফ্যাফ এর নাম শুনতে হবে এটা কোনো প্রশ্নকর্তা ই আশা করতেন না।  তারা যখন তাকে পুনরায় প্রশ্ন করতেন, তাহলে গাউস কী ?  ল্যাপ্লাসের উত্তর ছিলো, আরে ও তো ইউরোপের সেরা।   মর্ডান অ্যানালাইসিস এ সেরা তিনজনের ( ল্যাগ্রাঞ্জ, ল্যাপ্লাস,গাউস) একজন হলেন গাউস । গাউস ছিলেন এদের মধ্যে সবচেয়ে ছোট । তবে, গাউস এর কাজের মাধ্যমেই গণিতের নতুন যুগের সূচনা হয়েছিল ।  নতুন আবিস্কারের নেশা এবং সক্ষমতায় তিনি তার পূর্ববর্তী গণিতবিদদেরকে ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন। প্রমাণ এবং যথাযথ উপস্থাপনে একমাত্র গ্রিকদের সাথেই কেবল তার তুলনা চলে ।  মাত্র বিশ বছর বয়সেই উচ্চতর গণিতের পুরানো সব তত্ত্বকে  নতুন করে ব্যাখ্যা করেন এবং নতুন প্রমাণ পদ্ধতির মাধ্যমে সেগুলোকে সকলের সামনে তুলে ধরেন।  উপস্থাপনের সাবলীলতায় তিনি ল্যাপ্লাস এবং ল্যাগ্রাঞ্জকে ও ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন। তিনিই প্রথম ইনফিনিট সিরিজ(পূর্ণাঙ্গরুপে), ইলিপটিক ফাংশন এর ডাবল পিরিওডিসিটি,লিস্ট স্কয়ার মেথড, ডিটারমিনেন্ট এর সিস্টেমেটিক ব্যবহার...

ফিল্ডস মেডাল

 MIT এর জেনিটর উইল হান্টিং এর কথা মনে আছে । যে গণিত বিভাগের  নোটিশ বোর্ডে ঝুলিয়ে রাখা কঠিন কঠিন গাণিতিক সমস্যা গুলোর সমাধান লুকিয়ে লুকিয়ে  করে দিয়ে যেতো । আর, প্রফেসর জেরাল্ড খুঁজে বের করার চেষ্টা করতেন কে এই জিনিয়াস । 'গুড উইল হান্টিং' সিনেমায় প্রফেসর জেরাল্ড  "ফিল্ডস মেডাল " জয় করেন। যদিও সিনেমায় তার বয়স কোনক্রমেই চল্লিশের কম মনে হয়নি ।  গণিতে অবদানের স্বীকৃতি স্বরুপ এবং ভবিষ্যতে গবেষককে গবেষণা কাজে আরও উৎসাহিত করতে এই পুরস্কার প্রদান করা হয় । চার বছর পর পর  পুরস্কার প্রদান করা হয় । একবারে কমপক্ষে দুইজন এবং  সর্বোচ্চ চারজনকে এই পুরস্কার দেয়া হয়। যে বছর পুরস্কার দেয়া হবে ঐ বছরের জানুয়ারির ১ তারিখে বয়স অনধিক চল্লিশ হতে হবে।  পুরস্কারের অর্থমূল্য ১৫০০০ কানাডিয়ান ডলার।  এর সাথে  ৫,৫০০ কানাডিয়ান ডলার মূল্যের একটি স্বর্ণপদক প্রদান করা হয় ।  প্রতি চার বছর অন্তর অন্তর IMU এর কংগ্রেসের শুরুর দিনে ফিল্ডস মেডাল প্রদান করা হয়।  গণিতবিদ জে সি ফিল্ডস এর নাম অনুসারে একে ফিল্ডস মেডাল বলা হলেও, এর অফিসিয়াল নাম, "International medals for outst...