Skip to main content

গণিতের স্কুল - ৪

 প্লেটোকে বলা হয় maker of mathematicians. তার একাডেমিয়া'র দরজায় লিখা ছিলো - 


" যার গণিতের প্রতি আগ্রহ নাই , সে যেন আমার দরজা দিয়ে প্রবেশ না করে। " 


পীথাগোরিয়ানদের মতো তিনিও বিশ্বাস করতেন, গণিতের মাঝেই বিশ্ব সংসারের সকল রহস্য লুকিয়ে আছে । তার  মতে,  দার্শনিক হতে হলে গণিত জানতে হবে। সঠিকভাবে চিন্তা করার জন্য  গণিতে দক্ষতা অর্জন গুরুত্বপূর্ণ । 


প্লেটো প্রমাণ করেন যে,  দুটি  বর্গ সংখ্যার সমষ্টির যোগফল একটি বর্গ সংখ্যা হবে।  যদি, 


(2n)^2  + (n^2  -1) ^ 2  = (n^2  +  1)^2 


প্লেটোর পূর্বসূরি সফিস্টরা তত্বের উপর ভিত্তি করে  প্রমাণ উপস্থাপন করলেও ব্যাখ্যা ও বিস্তারিত আলোচনা করেছেন কম। অন্যদিকে,  প্লেটো গাণিতিক যুক্তির উপর বেশি জোর দিয়েছিলেন। গণিতের মৌলিক বিষয়গুলোর সংজ্ঞা  প্রদানে প্লেটো আর তার স্কুলের অবদান সবচেয়ে বেশি। 


' বিন্দু হলো রেখার শুরু । যাকে ভাগ করা যায়না।

রেখার দৈর্ঘ্য আছে। প্রস্থ নাই। '


ইউক্লিডের ইলিমেন্টস এর অনেক সংজ্ঞা  প্লেটোনিক স্কুল এর থেকে নেয়া। প্লেটোনিক স্কুলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান হলো বিশ্লেষণ (analysis) কে  প্রমান এর পদ্ধতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। 


analysis এর সংজ্ঞা দিতে গিয়ে ইউডক্সাস বলেন, 


" প্রথমে একটি বিষয়কে মেনে নিয়ে তাকে যুক্তির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত সত্যের সাহায্যে প্রতিষ্ঠা করা। " 


বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রমাণকে চুড়ান্ত প্রমান হিসেবে মেনে নেয়া হবে যদি এটি প্রতিবর্তনযোগ্য (reversible)  হয়।  অর্থাৎ , যে ভাবে প্রমান করা হয়েছে ঠিক সেভাবেই যদি আবার মূল বিষয়ে ফেরত যাওয়া যায় তাহলে এটি প্রমাণিত হয়েছে বলে মেনে নেয়া হবে। 

প্লেটোর আগে পর্যন্ত ঘণজ্যামিতি নিয়ে খুব বেশি আলোচনা হয়নি। গোলক এবং ঘণক নিয়ে কিছু কাজ হলেও  কোনক,পিরামিড, সিলিন্ডার এবং  প্রিজম  নিয়ে আলোচনা হয়নি বললেই চলে। 


প্লেটোর সহযোগী এবং ইউডক্সাস এর শিষ্য  মিনিমাসকে বলা হয় কণিকস এর আবিষ্কারক । তিনি দেখান যে কোনককে(cone) যদি সমতল(plane) এর সাহায্যে সমকোণে কাটা(intersection) যায় তাহলে প্যারাবোলা, ইলিপস,হাইপারবোলা তৈরি হয়। এই কার্ভগুলোর  ইন্টারসেকশন এর মাধ্যমে তিনি ডিলিয়ান প্রব্লেম এর দুটি সমাধান বের করেছিলেন ।  মিনিমাস এর ছোট ভাই এবং প্লেটোর শিষ্য ডাইনোস্ট্রাস হিপ্পিয়াস এর quadratrix ব্যবহার করে  বৃত্তের বর্গীকরণ করেছিলেন।  


প্লেটোর সময়ের সবচেয়ে প্রতিভাবান গণিতবিদ হলেন ইউডক্সাস। তিনি অ্যাকিটাস এবং প্লেটো দুজনের কাছ থেকেই শিক্ষালাভ করেন।  তাকে বলা হয় 'ফাদার অব সাইন্টিফিক এস্ট্রনোমিকাল অবজারভেশন'। সিজিকাস এ তিনি একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। প্লেটোর একাডেমিয়ার খ্যাতি অর্জনের পিছনে সিজিকাস এরও অবদান আছে। মিনিমাস,ডাইনস্ট্রাস,এথেনিয়াস এবং হেলিকন ছিলেন ইউডক্সাস এর শিষ্য।  যারা পরবর্তীতে প্লেটোর একাডেমিয়ায় শিক্ষকতা করেন।


গোল্ডেন রেশিও নিয়ে তিনি কাজ করেছিলেন।  ইউক্লিড এর ইলিমেন্টস এ গোল্ডেন রেশিও  এর যে  ব্যবহার দেখা যায় সেটা ইউডক্সাস এর কল্যানে। প্রক্লাস বলেন, ইউক্লিড এর ইলিমেন্টস এর পঞ্চম ভাগের পুরোটাই ইউডক্সাস এর অবদান।


  ' ***মেথড অব এক্সশন '( ইন্টিগ্রাল ক্যালকুলাস এর পুর্বপুরুষ)  ব্যবহার করার ক্ষেত্রে তিনি দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন।মেথড আব এক্সশন ব্যবহার করে তিনি পিরামিড, কোনক, ঘনক এর আয়তন নির্ণয় করেছিলেন । সফিস্ট এন্টিফনকে মেথড অব এক্সশন এর আবিষ্কারক বলা হয়। অনেকে ইউডক্সাসকে এর কৃতিত্ব দেন।


*** মেথড অব এক্সশন / proof by contradiction  /  reductio absurdum


 ইউক্লিড এর ইলিমেন্টস এর vol12 এর proposition 2,5,10,11,12,18 এ মেথড অব এক্সশন এর ব্যবহার করা হয়েছে।  আর্কিমিডিস পাই এর মান বের করেছিলেন মেথড অব এক্সশন  ব্যবহার করে।

Comments

Popular posts from this blog

শুন্য কিভাবে এলো

 অন্য সব সংখ্যার মতোই শুন্য এর উৎপত্তি কবে থেকে সেটা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শুন্য ছাড়া এই উপমহাদেশের (hindu numerals) সংখ্যা পদ্ধতির সাথে অন্য সংখ্যা পদ্ধতির পার্থক্য সামান্য। অন্য সংখ্যার সাথে শুন্য এর প্রধান পার্থক্য এর স্থানিক মানে। ভারতীয় উপমহাদেশে শুন্য এর সবচেয়ে প্রাচীন এবং নির্ভরযোগ্য নিদর্শন পাওয়া যায় ৮৭৬ সালের এক শিলালিপিতে। গোয়ালিয়রে প্রাপ্ত এই শিলালিপিতে ৫০ এবং ২৭০ সংখ্যা দুটি লিখা ছিল শুন্য ব্যবহার করে। তবে শুন্য এর ইতিহাস আরও প্রাচীন। ব্যাবিলনীয়রা সংখ্যার অনুপস্থিতি নির্দেশ করার জন্য আলাদা চিহ্ন ব্যবহার করত। তবে বর্তমানে আমরা যে কাজে শুন্য ব্যাবহার করে থাকি, ব্যাবিলনীয় সংখ্যা পদ্ধতিতে তার কোনো ব্যবহার ছিলো না। গ্রিক পান্ডুলিপিতে স্থানিক মানের কিছু ব্যবহার দেখা যায়। ডিওফ্যান্টাস এর কাজে স্থানিক মানের প্রমান মিলে।  গ্রিকরা ওমিক্রন (O) চিহ্ন দ্বারা গর্ত নির্দেশ করতো। ব্রাক্ষ্মি লিপিতে শিং বিশিষ্ট একধরনের বৃত্তের(ছবি দ্রষ্টব্য) ব্যবহার দেখা যায়। যা ১০ নির্দেশ করতো। এই উপমহাদেশে ব্যবহৃত শুন্যের (০) সাথে আরবরা ৫ লেখার জন্য যে চিহ্ন ব্যাবহার করতো তার মিল ছিল। ...

কার্ল ফ্রিডরিখ গাউস

 ল্যাপ্লাসকে যখন প্রশ্ন করা হতো জার্মানির সেরা গণিতবিদ কে ? , তার একটাই উত্তর ছিলো, ফ্যাফ(pfaff)। গাউস কে বাদ দিয়ে ফ্যাফ এর নাম শুনতে হবে এটা কোনো প্রশ্নকর্তা ই আশা করতেন না।  তারা যখন তাকে পুনরায় প্রশ্ন করতেন, তাহলে গাউস কী ?  ল্যাপ্লাসের উত্তর ছিলো, আরে ও তো ইউরোপের সেরা।   মর্ডান অ্যানালাইসিস এ সেরা তিনজনের ( ল্যাগ্রাঞ্জ, ল্যাপ্লাস,গাউস) একজন হলেন গাউস । গাউস ছিলেন এদের মধ্যে সবচেয়ে ছোট । তবে, গাউস এর কাজের মাধ্যমেই গণিতের নতুন যুগের সূচনা হয়েছিল ।  নতুন আবিস্কারের নেশা এবং সক্ষমতায় তিনি তার পূর্ববর্তী গণিতবিদদেরকে ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন। প্রমাণ এবং যথাযথ উপস্থাপনে একমাত্র গ্রিকদের সাথেই কেবল তার তুলনা চলে ।  মাত্র বিশ বছর বয়সেই উচ্চতর গণিতের পুরানো সব তত্ত্বকে  নতুন করে ব্যাখ্যা করেন এবং নতুন প্রমাণ পদ্ধতির মাধ্যমে সেগুলোকে সকলের সামনে তুলে ধরেন।  উপস্থাপনের সাবলীলতায় তিনি ল্যাপ্লাস এবং ল্যাগ্রাঞ্জকে ও ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন। তিনিই প্রথম ইনফিনিট সিরিজ(পূর্ণাঙ্গরুপে), ইলিপটিক ফাংশন এর ডাবল পিরিওডিসিটি,লিস্ট স্কয়ার মেথড, ডিটারমিনেন্ট এর সিস্টেমেটিক ব্যবহার...

লিওনার্দ অয়লার

 রাজা চতুর্দশ লুই এর সময় পার করে ইউরোপের গণিতের পতাকা এখন ফরাসিদের হাতে।  অন্যদিকে নিউটন আর লিবনিজ এর মৃত্যুর পরে ব্রিটেন আর জার্মানিতে গণিতের প্রদিপ নিভু নিভু করছে।   ১৭৩০ - ১৮২০ এই নব্বই বছর সময় হলো ফরাসি এবং সুইস গণিতের স্বর্ণযুগ যুগ।  এই সময় ফ্রান্সের ছিলো ল্যাগ্রাঞ্জ, ল্যাপ্লাস,লিজেন্ডার, মনগে। আর সুইজারল্যান্ডের ছিলো অয়লার।   বের্নুলি পরিবারের কারণে বাসেল এর নাম তখন গণিতবিদদের মুখে মুখে।  অন্যদিকে অয়লার এর কারণে তার সম্মান দ্বিগুণ হয়েছে।   অয়লার এর পিতা ছিলেন একজন যাজক।  তিনি জ্যাক বের্নুলির কাছে শিক্ষাগ্রহণ করেছেন।  মুলত, পিতার আগ্রহেই অয়লারের গণিতের জগতে প্রবেশ। ইউনিভার্সিটি অব বাসেলে পড়ার সময় জন বের্নুলি ছিলেন অয়লার এর শিক্ষক।   মাত্র উনিশ বছর বয়সে জাহাজের মাস্তল নিয়ে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করে ফরাসি বিজ্ঞান একাডেমির কাছ থেকে পুরস্কৃত হন।  ১৭২৭ সালে জন বের্নুলির দুই ছেলে ড্যানিয়েল এবং নিকোলাস বের্নুলি  অনুরোধে  রাশিয়ার রানি ক্যাথরিন  অয়লারকে সেন্ট পিটার্সবার্গে আমন্ত্রণ জানান।  ১৭৩৫ স...