Skip to main content

গণিতের স্কুল - ৩

 সালামিস এর যুদ্ধে (৪৮০ খ্রীস্টপূর্ব) গ্রিকদের কাছে জেরেক্সেস এর পরাজয়ের পর ঈজিয়ান সাগরের তীরবর্তী গ্রিক দ্বিপগুলো নিজেদের স্বাধীনতা টিকিয়ে রাখার জন্য নিজেদের মধ্যে একটি মৈত্রীসংঘ গঠন করে। গ্রিক দ্বীপগুলোর এই সংগঠনের নেতা ছিলো এথেন্স। ব্যবসা বানিজ্যের কেন্দ্রও ছিলো এথেন্স। খুব শীঘ্রই এথেন্স তার এই ক্ষমতা ও প্রতিপত্তিকে কাজে লাগিয়ে সবচেয়ে ধনী দ্বিপ রাষ্ট্রে পরিণত হয়। ফলে এথেন্সের নাগরিকরাও ছিলো ধনী এবং দাসদের দ্বারা সকল ধরনের কায়িক পরিশ্রম করানো হতো, তাই তাদের হাতে প্রচুর অবসর সময় ছিলো। এথেন্সে প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র প্রচলিত ছিল। অর্থাৎ, দেশের সকল নাগরিক দেশ পরিচালনায় অংশগ্রহণ করতো। যেহেতু, এথেন্সের সকল নাগরিক ছিলো ক্ষমতাধর এবং ধনী, তার ফলে যে যতো বেশী শিক্ষিত সমাজে তার মর্যাদা ছিলো ততো বেশি। তাই শিক্ষকের চাহিদাও বাড়তে থাকে। শিক্ষকদের বেশিরভাগই এসেছিলো সিসিলি থেকে। এই শিক্ষকদেরকে বলা হতো সফিস্ট বা জ্ঞানী ব্যক্তি। সফিস্টরা অর্থের বিনিময়ে ধনীদেরকে বক্তৃতা এবং দর্শণ, ক্ষেত্রবিশেষে জ্যামিতি ও জ্যোতির্বিদ্যার শিক্ষা দিতেন। এদের বদৌলতে এথেন্স জ্ঞান বিজ্ঞানের কেন্দ্রে পরিণত হয়। গণিতেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।


বৃত্ত জ্যামিতি ছিলো সফিস্টদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে। মুলত, গণিতের তিনটি বিখ্যাত সমস্যার সমাধান করতে গিয়েই তারা বৃত্ত সম্পর্কিত অন্যান্য উপপাদ্যগুলো আবিষ্কার করেন। সমস্যাগুলো ছিলো -


(১) একটি কোনকে তিনভাগ করা।

(২) কিউবের আয়তন দ্বিগুণ করা (ডিলিয়ান প্রব্লেম) 

(৩) বৃত্তকে বর্গীকরণ / বৃত্তকে বর্গক্ষেত্রে পরিণত করা / এমন একটি চতুর্ভুজক্ষেত্র বানাতে হবে  যার ক্ষেত্রফল হবে বৃত্তের ক্ষেত্রফলের সমান/ square the circle/squaring of a circle. 


সোজা কথায় শুধুমাত্র স্কেল,কম্পাস ব্যবহার করে বৃত্তের ক্ষেত্রফল বের করতে হবে। কারণ, তখন, গ্রিসে বীজগণিতের প্রচলন ছিলোনা। অনেকক্ষেত্রে, যোগ, বিয়োগ,গুণ,ভাগও তারা স্কেল, কম্পাস ব্যবহার করে করতেন। এই কারণে পীথাগোরাস তার জীবদ্দশায় অমুলদ সংখ্যাকে সংখ্যা হিসেবে ধরেননি। এমনকি মুলদ সংখ্যা কিন্তু ভগ্নাংশকে তারা পারতপক্ষে এড়িয়ে চলতেন। পীথাগোরিয়ানদের কাছে সংখ্যা হলো ইন্টিজার বা পূর্ণ সংখ্যা। ইউক্লিড তার ইলিমেন্টস এ একই কাজ করেছেন। 


হিপোক্রেটিস বৃত্তের ক্ষেত্রফল বের করতে গিয়ে দুটি বৃত্তচাপের মধ্যবর্তী অংশের ক্ষেত্রফল বের করে ফেলেছিলেন। 


১৮০০ সালে এসে প্রমান হয়, শুধুমাত্র স্কেল, কম্পাস ব্যবহার করে বৃত্তকে বর্গীকরণ / বৃত্তের ক্ষেত্রফল বের করা সম্ভব নয়।




Comments

Popular posts from this blog

শুন্য কিভাবে এলো

 অন্য সব সংখ্যার মতোই শুন্য এর উৎপত্তি কবে থেকে সেটা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শুন্য ছাড়া এই উপমহাদেশের (hindu numerals) সংখ্যা পদ্ধতির সাথে অন্য সংখ্যা পদ্ধতির পার্থক্য সামান্য। অন্য সংখ্যার সাথে শুন্য এর প্রধান পার্থক্য এর স্থানিক মানে। ভারতীয় উপমহাদেশে শুন্য এর সবচেয়ে প্রাচীন এবং নির্ভরযোগ্য নিদর্শন পাওয়া যায় ৮৭৬ সালের এক শিলালিপিতে। গোয়ালিয়রে প্রাপ্ত এই শিলালিপিতে ৫০ এবং ২৭০ সংখ্যা দুটি লিখা ছিল শুন্য ব্যবহার করে। তবে শুন্য এর ইতিহাস আরও প্রাচীন। ব্যাবিলনীয়রা সংখ্যার অনুপস্থিতি নির্দেশ করার জন্য আলাদা চিহ্ন ব্যবহার করত। তবে বর্তমানে আমরা যে কাজে শুন্য ব্যাবহার করে থাকি, ব্যাবিলনীয় সংখ্যা পদ্ধতিতে তার কোনো ব্যবহার ছিলো না। গ্রিক পান্ডুলিপিতে স্থানিক মানের কিছু ব্যবহার দেখা যায়। ডিওফ্যান্টাস এর কাজে স্থানিক মানের প্রমান মিলে।  গ্রিকরা ওমিক্রন (O) চিহ্ন দ্বারা গর্ত নির্দেশ করতো। ব্রাক্ষ্মি লিপিতে শিং বিশিষ্ট একধরনের বৃত্তের(ছবি দ্রষ্টব্য) ব্যবহার দেখা যায়। যা ১০ নির্দেশ করতো। এই উপমহাদেশে ব্যবহৃত শুন্যের (০) সাথে আরবরা ৫ লেখার জন্য যে চিহ্ন ব্যাবহার করতো তার মিল ছিল। ...

কার্ল ফ্রিডরিখ গাউস

 ল্যাপ্লাসকে যখন প্রশ্ন করা হতো জার্মানির সেরা গণিতবিদ কে ? , তার একটাই উত্তর ছিলো, ফ্যাফ(pfaff)। গাউস কে বাদ দিয়ে ফ্যাফ এর নাম শুনতে হবে এটা কোনো প্রশ্নকর্তা ই আশা করতেন না।  তারা যখন তাকে পুনরায় প্রশ্ন করতেন, তাহলে গাউস কী ?  ল্যাপ্লাসের উত্তর ছিলো, আরে ও তো ইউরোপের সেরা।   মর্ডান অ্যানালাইসিস এ সেরা তিনজনের ( ল্যাগ্রাঞ্জ, ল্যাপ্লাস,গাউস) একজন হলেন গাউস । গাউস ছিলেন এদের মধ্যে সবচেয়ে ছোট । তবে, গাউস এর কাজের মাধ্যমেই গণিতের নতুন যুগের সূচনা হয়েছিল ।  নতুন আবিস্কারের নেশা এবং সক্ষমতায় তিনি তার পূর্ববর্তী গণিতবিদদেরকে ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন। প্রমাণ এবং যথাযথ উপস্থাপনে একমাত্র গ্রিকদের সাথেই কেবল তার তুলনা চলে ।  মাত্র বিশ বছর বয়সেই উচ্চতর গণিতের পুরানো সব তত্ত্বকে  নতুন করে ব্যাখ্যা করেন এবং নতুন প্রমাণ পদ্ধতির মাধ্যমে সেগুলোকে সকলের সামনে তুলে ধরেন।  উপস্থাপনের সাবলীলতায় তিনি ল্যাপ্লাস এবং ল্যাগ্রাঞ্জকে ও ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন। তিনিই প্রথম ইনফিনিট সিরিজ(পূর্ণাঙ্গরুপে), ইলিপটিক ফাংশন এর ডাবল পিরিওডিসিটি,লিস্ট স্কয়ার মেথড, ডিটারমিনেন্ট এর সিস্টেমেটিক ব্যবহার...

লিওনার্দ অয়লার

 রাজা চতুর্দশ লুই এর সময় পার করে ইউরোপের গণিতের পতাকা এখন ফরাসিদের হাতে।  অন্যদিকে নিউটন আর লিবনিজ এর মৃত্যুর পরে ব্রিটেন আর জার্মানিতে গণিতের প্রদিপ নিভু নিভু করছে।   ১৭৩০ - ১৮২০ এই নব্বই বছর সময় হলো ফরাসি এবং সুইস গণিতের স্বর্ণযুগ যুগ।  এই সময় ফ্রান্সের ছিলো ল্যাগ্রাঞ্জ, ল্যাপ্লাস,লিজেন্ডার, মনগে। আর সুইজারল্যান্ডের ছিলো অয়লার।   বের্নুলি পরিবারের কারণে বাসেল এর নাম তখন গণিতবিদদের মুখে মুখে।  অন্যদিকে অয়লার এর কারণে তার সম্মান দ্বিগুণ হয়েছে।   অয়লার এর পিতা ছিলেন একজন যাজক।  তিনি জ্যাক বের্নুলির কাছে শিক্ষাগ্রহণ করেছেন।  মুলত, পিতার আগ্রহেই অয়লারের গণিতের জগতে প্রবেশ। ইউনিভার্সিটি অব বাসেলে পড়ার সময় জন বের্নুলি ছিলেন অয়লার এর শিক্ষক।   মাত্র উনিশ বছর বয়সে জাহাজের মাস্তল নিয়ে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করে ফরাসি বিজ্ঞান একাডেমির কাছ থেকে পুরস্কৃত হন।  ১৭২৭ সালে জন বের্নুলির দুই ছেলে ড্যানিয়েল এবং নিকোলাস বের্নুলি  অনুরোধে  রাশিয়ার রানি ক্যাথরিন  অয়লারকে সেন্ট পিটার্সবার্গে আমন্ত্রণ জানান।  ১৭৩৫ স...