Skip to main content

আর্কিমিডিস

 সম্রাট হেরোনের রাজ্যাভিষেক অনুষ্ঠান। তার মাথায় স্বর্ণের মুকুট পরিয়ে দেয়া হলো।  রাজার সন্তান হেরোনের সন্দেহ হলো স্বর্ণকার  তাকে ঠকিয়েছে। কিন্তু, প্রমাণ ছাড়াতো শাস্তি দেয়া যায় না।  ডাক পড়লো আর্কিমিডিসের।  যার অদ্ভুত অদ্ভুত আবিষ্কারের কারণে তার রাজ্য রোমান সৈনাদের হাত থেকে অনেকবার রক্ষা পেয়েছে । আর্কিমিডিস ঘুমাতে গেলেও এখন মুকুট নিয়ে যায়। খেতে বসলেও মুকুট নিয়ে যায়।  নাওয়া খাওয়ায় মনোযোগ নাই। মুকুট হাতে নিয়ে কখন বাথটাবে নেমেছেন বলা মুস্কিল।  অন্যমনস্ক হয়ে মুকুটটি নাড়ছেন।  গোসলখানার দরজায় টোকা পড়তেই হাত থেকে মুকুটটি বাথটাবে পড়ে যায়। সাথে সাথেই তার অংক মিলে যায়। আবিষ্কার করে বসেছেন প্লবতার সূত্র (আর্কিমিডিসের সূত্র /ল অব বয়ান্সি) । ভুলে যান তিনি নগ্নগাত্র। পাইছি,পাইছি (ইউরেকা,ইউরেকা) বলে চিৎকার করতে করতে তিনি ছুটলেন রাজার দরবারে। 


প্রাচীন যুগের সবচেয়ে প্রতিভাবান গণিতবিদ  সিরাকাসের আর্কিমিডিসকে সবাই চিনে থাকবে তার আবিস্কৃত যন্ত্রপাতির জন্য । ক্লাসিক যুগের নিউটনকে মিসাইলের আবিষ্কারক বলা হয় । রোমান সেনাদের অনেক তরী সিরাকাসের সমুদ্র তীরে এসে ডুবে গেছে তার বানানো লিভারের আঘাতে। 


তিনি রাজা হেরোনকে বলেছিলেন, 


" আমাকে দাড়ানোর জায়গা দাও,আমি পৃথিবী নাড়িয়ে দিবো।"


রাজা বললেন প্রমান দাও। কথিত আছে তিনি লিভারের নীতি ব্যবহার করে জাহাজকে একা তীরে টেনে এনেছিলেন। কনভেক্স লেন্স ব্যবহার করে রোমান জাহাজে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিলেন। 


জ্যামিতি ব্যবহার করে রোমান সেনাদের বাদর নাচ নাচিয়ে ছেড়েছেন। সিরাকাসের দুর্গপ্রাচীরে তারা যদি দড়ির ছায়াও দেখতে পেতো তাহলেও  জাহাজ ঘুরিয়ে বাড়ির পথ ধরতো।  গণিতের বাস্তব প্রয়োগে বিশ্বাসী রোমানরা যতবার সিরাকাস দখল  করতে গিয়েছে ততবারই তাদের সেনাপতির আদেশ ছিলো আর্কিমিডিসকে জীবিত অবস্থায় বন্দী করতে হবে। রোমান সেনাপতি মার্সিলাস এর নেতৃত্বে সিরাকাসের যখন পতন হয় তখনও তিনি গণিত নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন।  প্রতিপক্ষ সেনারা যখন তাকে বন্দী করতে আসে, তিনি বলেন, অংক করতেছি বিরক্ত করো না। যা হবার তাই হলো সেনার তরবারির আঘাতে পচাত্তর বছরের আর্কিমিডিসের মৃত্যু হলো। 


মার্সেলাস আর্কিমিডিসের শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তার টোম্বস্টোনটিকে সিলিন্ডারে আবৃত গোলকের ন্যায় তৈরি করেছিলেন।  যার উপরে লিখা ছিলো 3 : 2।

সিলিন্ডারের আর গোলকের আয়তন এর অনুপাত ৩ : ২ এবং তাদের তলের ক্ষেত্রফলের অনুপাত ও ৩ : ২।   


আর্কিমিডিস তার মেজারমেন্ট অব সার্কেল বইতে, প্রমাণ করেছেন যে, বৃত্তের  ক্ষেত্রফল সমকোণী ত্রিভুজ ক্ষেত্রফলের সমান হবে, যদি লম্বের দৈর্ঘ্য ব্যাসার্ধের দৈর্ঘ্যের সমান হয় এবং ভূমি পরিধির সমান হয়।  এর জন্য তিনি বৃত্তের পরিধি ও ব্যাসের অনুপাত( π) হিসেব করেন, 


                     ২২৩/৭১  < π < ২২/৭



Comments

Popular posts from this blog

কার্ল ফ্রিডরিখ গাউস

 ল্যাপ্লাসকে যখন প্রশ্ন করা হতো জার্মানির সেরা গণিতবিদ কে ? , তার একটাই উত্তর ছিলো, ফ্যাফ(pfaff)। গাউস কে বাদ দিয়ে ফ্যাফ এর নাম শুনতে হবে এটা কোনো প্রশ্নকর্তা ই আশা করতেন না।  তারা যখন তাকে পুনরায় প্রশ্ন করতেন, তাহলে গাউস কী ?  ল্যাপ্লাসের উত্তর ছিলো, আরে ও তো ইউরোপের সেরা।   মর্ডান অ্যানালাইসিস এ সেরা তিনজনের ( ল্যাগ্রাঞ্জ, ল্যাপ্লাস,গাউস) একজন হলেন গাউস । গাউস ছিলেন এদের মধ্যে সবচেয়ে ছোট । তবে, গাউস এর কাজের মাধ্যমেই গণিতের নতুন যুগের সূচনা হয়েছিল ।  নতুন আবিস্কারের নেশা এবং সক্ষমতায় তিনি তার পূর্ববর্তী গণিতবিদদেরকে ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন। প্রমাণ এবং যথাযথ উপস্থাপনে একমাত্র গ্রিকদের সাথেই কেবল তার তুলনা চলে ।  মাত্র বিশ বছর বয়সেই উচ্চতর গণিতের পুরানো সব তত্ত্বকে  নতুন করে ব্যাখ্যা করেন এবং নতুন প্রমাণ পদ্ধতির মাধ্যমে সেগুলোকে সকলের সামনে তুলে ধরেন।  উপস্থাপনের সাবলীলতায় তিনি ল্যাপ্লাস এবং ল্যাগ্রাঞ্জকে ও ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন। তিনিই প্রথম ইনফিনিট সিরিজ(পূর্ণাঙ্গরুপে), ইলিপটিক ফাংশন এর ডাবল পিরিওডিসিটি,লিস্ট স্কয়ার মেথড, ডিটারমিনেন্ট এর সিস্টেমেটিক ব্যবহার...

ডমরু-চরিত (১৯২৩) - ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়

ডমরু-চরিতে একজন মহাকৃপণ, ধূর্ত, অর্থলোভী, সুযোগ-সন্ধানী এবং তৎসহ প্রবঞ্চক অথচ বুদ্ধিমান, সাহসী, কার্যপটু ব্যক্তির চোখ দিয়ে জগৎ-দর্শন করিয়েছেন গ্রন্থকার। ডমরুধর শঠ, প্রবঞ্চক, ফন্দিবাজ - এক কথায় একটি ডার্ক ক্যারেক্টার। ব্যঙ্গের সঙ্গে উদ্ভট রসের আশ্চর্য মিশ্রণেই এই বইয়ের আসল মজা। আসলে যুগটাই ছিল ব্যঙ্গ রচনার অনুকূল। সবসময় সবরকম যুগ পরিবেশে ব্যঙ্গ সাহিত্যের উদ্ভব হয় না। একধরনের সংশয়বোধ, মানসিক দ্বিধা, চিন্তার দোদুল্যমানতা ব্যঙ্গ সাহিত্যের জন্ম দিয়ে থাকে। এ প্রসঙ্গে শিশিরকুমার দাস বলেছেনঃ সমাজে যখন ভাঙন আরম্ভ হয়, যখন স্থির অবিচলিত সত্যগুলি পরিবর্তনের স্রোতে ভেসে যেতে থাকে তখনই ব্যঙ্গের সূচনা। লেখক খুব সাধারণ, হাস্যরসাত্মক চালে গল্পগুলো বলা শুরু করেন, কিন্তু হঠাৎ হঠাৎ গল্পের ভেতরে এমন এক গভীর সামাজিক সত্য বা মানব চরিত্রের স্বার্থপরতার রূপ উন্মোচন করেন, যা পাঠককে একাধারে হাসায় এবং ভাবিয়ে তোলে। বইটিতে অন্যায়কারীর বয়ানে ঘটনাগুলোকে দেখানো হয়েছে। অপরাধী মনে করে সে যথেষ্ট উচিত কাজ করছে, তার দোষ ধরা কোনোভাবেই উচিত নয়। যার ফলে পাঠকের কাছে চরিত্রটির অসাড়তা ও মানবসমাজের স্বার্...

ফিল্ডস মেডাল

 MIT এর জেনিটর উইল হান্টিং এর কথা মনে আছে । যে গণিত বিভাগের  নোটিশ বোর্ডে ঝুলিয়ে রাখা কঠিন কঠিন গাণিতিক সমস্যা গুলোর সমাধান লুকিয়ে লুকিয়ে  করে দিয়ে যেতো । আর, প্রফেসর জেরাল্ড খুঁজে বের করার চেষ্টা করতেন কে এই জিনিয়াস । 'গুড উইল হান্টিং' সিনেমায় প্রফেসর জেরাল্ড  "ফিল্ডস মেডাল " জয় করেন। যদিও সিনেমায় তার বয়স কোনক্রমেই চল্লিশের কম মনে হয়নি ।  গণিতে অবদানের স্বীকৃতি স্বরুপ এবং ভবিষ্যতে গবেষককে গবেষণা কাজে আরও উৎসাহিত করতে এই পুরস্কার প্রদান করা হয় । চার বছর পর পর  পুরস্কার প্রদান করা হয় । একবারে কমপক্ষে দুইজন এবং  সর্বোচ্চ চারজনকে এই পুরস্কার দেয়া হয়। যে বছর পুরস্কার দেয়া হবে ঐ বছরের জানুয়ারির ১ তারিখে বয়স অনধিক চল্লিশ হতে হবে।  পুরস্কারের অর্থমূল্য ১৫০০০ কানাডিয়ান ডলার।  এর সাথে  ৫,৫০০ কানাডিয়ান ডলার মূল্যের একটি স্বর্ণপদক প্রদান করা হয় ।  প্রতি চার বছর অন্তর অন্তর IMU এর কংগ্রেসের শুরুর দিনে ফিল্ডস মেডাল প্রদান করা হয়।  গণিতবিদ জে সি ফিল্ডস এর নাম অনুসারে একে ফিল্ডস মেডাল বলা হলেও, এর অফিসিয়াল নাম, "International medals for outst...