Skip to main content

গুণের ক্রমবিকাশ

 গুণন এর ধারণা, ক্রমবিকাশ এবং এর ইতিহাস সর্বোপরি এই প্রক্রিয়াটি যোগের ধারণা এবং ক্রমবিকাশ এর তুলনায় অধিক আকর্ষণীয়। প্রাচীন গুণন প্রক্রিয়া সম্পর্কে খুব অল্পই আমরা জানতে পেরেছি ।

মিশরীয়রা ডুপ্লেশন প্লান ব্যবহার করতো। যেমন, এই প্রক্রিয়ায় ১৭ এবং ১৫ এর গুণ এর নিয়মটি হলো,

১        ১৭
২        ৩৪
৪       ৬৮
৮     ১৩৬
১৬    ২৭২
১        ১৭
........ ...........
১৫     ২৫৫


অর্থাৎ, দ্বিগুণ করে অতিরিক্তটি বিয়োগ। রেনেসাঁ যুগের জার্মান গণিতবিদ মিশেল স্টাইফেল ও ধারাবাহিক দ্বিতকরণ পদ্ধতিটি ব্যবহার করতেন।

১ . ৪২      =      ৪২
২ . ৪২      =     ৮৪
৪ . ৪২      =   ১৬৮
৮ . ৪২     =   ৩৩৬
১৬ . ৪২    =   ৬৭ ২
............. = ............
৩১.৪২      =   ১৩০২



মিশরীয় দ্বিত প্রক্রিয়া (duplation plan) এর সাথে সমসাময়িক রাশিয়ান পিজেন্ট মেথড এর অনেক মিল।

এই প্রক্রিয়ায় ৪৯ এবং ২৮ এর গুণ করতে , ৪৯ কে অর্ধেক করতে করতে ১ এ পৌছাতে হবে এবং তার নিচে যথাক্রমে ২৮ এর দ্বিগুণ, চারগুণ,... করতে করতে এগুতে হবে। ভগ্নাংশ বাদ যাবে। এবং সবশেষে, বিজোড় সংখ্যাগুলোর নিচে যে সংখ্যাগুলো থাকবে সেগুলো যোগ করতে হবে।

৪৯   ২৪   ১২     ৬     ৩      ১
২৮  ৫৬  ১১২  ২২৪  ৪৪৮  ৮৯৬

২৮+৪৪৮+৮৯৬ = ১৩৭২


ভাস্করাচার্য তার লীলাবতী(১১৫০) তে ৫ টি গুণন প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ করেন। এর অনুবাদক আরও ২ টি প্রক্রিয়া তার সাথে সংযুক্ত করেন। পরবর্তীতে প্যাসিওলি তার suma(1494) বইটিতে সর্বমোট ৮ টি প্রক্রিয়ার বর্ণনা করেছেন। আমরা বর্তমানে গুণের যে প্রক্রিয়াটি ব্যবহার করে থাকি সেটি চেজবোর্ড মাল্টিপ্লিকেশন নামেও পরিচিত। এর আর একটি নাম হলো লিটল স্টেয়ার্স। তবে লীলাবতীতে প্রাপ্ত গুণনের নিয়মগুলো একটু ভিন্ন।

এখানে, গুণক কে একটি সংখ্যা ধরা হতো। এবং বাম থেকে গুণ করা হতো।

 ১৩৫
১২
...........
১২
  

   ৩৬     

      ৬০
...............
  ১৬২০




আরেকটি নিয়মে গুণক কে আলাদা ই রাখা হতো। তবে, বাম থেকে গুণ প্রক্রিয়া শুরু হতো।

  ১৩৫
১ ২
.............
১৩৫
   ২৭ ০
.............
১ ৬ ২ ০




প্যাসিওলি'র অষ্টম মেথডটির ইটালিয়ান নাম হলো
স্ক্যাপেজ্জো। গুণক কে অনেকগুলো ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে গুণ করা হয়।

২৬×৬৭=(৩+৪+৫+৬+৭+৮)×৬৭

 
= ২০১+২৬৮+৩৩৫+৪০২+৫৩৬= ১৭৪২



এছাড়াও, গেলোসিয়া/সিয়েভ/ সেল/গ্রান্টিং/স্কয়ার নামে পরিচিত, যার বর্তমানে বহুল ব্যবহৃত নাম হলো ল্যাটিস পদ্ধতি।
এই পদ্ধতিতে গুণের প্রক্রিয়াটি হলো,
প্রথমে, একটি চতুর্ভুজ তৈরি করতে হবে। গুণ্যের যতটি অংক চতুর্ভুজটিকে ততটি কলামে ভাগ করতে হবে । এবং, গুণকের যতটি অংক চতুর্ভুজটিকে ততটি সারিতে ভাগ করতে হবে। এরপর, প্রতিটি ঘরকে ডান দিক থেকে কর্ণ বরাবর দুই ভাগ করতে হবে।গুণ্য কে চতুর্ভুজটির উপরে লিখতে হবে এবং গুণক কে চতুর্ভুজটির ডানে কলাম আকারে লিখতে হবে। এরপর, গুণক এবং গুণ্য গুণ করে প্রতি ঘরে দশকের অংক উপরে এবং শতকের অংক নিচে লিখতে হবে। এরপর, কর্ণ বরাবর যোগ করতে হবে। এবার, যোগফলগুলোকে কর্ণ বরাবর নিচে লিখতে হবে। এরপর, বাম থেকে ডান বরাবর প্রতিটি সংখ্যা পাশাপাশি বসিয়ে দিলে গুণফলটি পাওয়া যাবে। (৯৩৪ এবং ৩১৪ এর গুণফল এই প্রক্রিয়ায় কতো হবে?)

 


 

অ্যাবাকাস এর সাহায্যে ৪৬০০ কে ২৩ দ্বারা গুণ করার প্রক্রিয়াটি নিচের ছবিতে দেখতে পাচ্ছেন। শুন্যের জায়গাটি ফাঁকা থাকতো। হিন্দু - অ্যারাবিক গণনা প্রক্রিয়ার প্রাথমিক যুগের প্রভাব এর মধ্যে রয়েছে । এখান থেকেই হয়তো চেসবোর্ড মেথড নামটি এসেছে।

 

 


 

Comments

Popular posts from this blog

শুন্য কিভাবে এলো

 অন্য সব সংখ্যার মতোই শুন্য এর উৎপত্তি কবে থেকে সেটা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শুন্য ছাড়া এই উপমহাদেশের (hindu numerals) সংখ্যা পদ্ধতির সাথে অন্য সংখ্যা পদ্ধতির পার্থক্য সামান্য। অন্য সংখ্যার সাথে শুন্য এর প্রধান পার্থক্য এর স্থানিক মানে। ভারতীয় উপমহাদেশে শুন্য এর সবচেয়ে প্রাচীন এবং নির্ভরযোগ্য নিদর্শন পাওয়া যায় ৮৭৬ সালের এক শিলালিপিতে। গোয়ালিয়রে প্রাপ্ত এই শিলালিপিতে ৫০ এবং ২৭০ সংখ্যা দুটি লিখা ছিল শুন্য ব্যবহার করে। তবে শুন্য এর ইতিহাস আরও প্রাচীন। ব্যাবিলনীয়রা সংখ্যার অনুপস্থিতি নির্দেশ করার জন্য আলাদা চিহ্ন ব্যবহার করত। তবে বর্তমানে আমরা যে কাজে শুন্য ব্যাবহার করে থাকি, ব্যাবিলনীয় সংখ্যা পদ্ধতিতে তার কোনো ব্যবহার ছিলো না। গ্রিক পান্ডুলিপিতে স্থানিক মানের কিছু ব্যবহার দেখা যায়। ডিওফ্যান্টাস এর কাজে স্থানিক মানের প্রমান মিলে।  গ্রিকরা ওমিক্রন (O) চিহ্ন দ্বারা গর্ত নির্দেশ করতো। ব্রাক্ষ্মি লিপিতে শিং বিশিষ্ট একধরনের বৃত্তের(ছবি দ্রষ্টব্য) ব্যবহার দেখা যায়। যা ১০ নির্দেশ করতো। এই উপমহাদেশে ব্যবহৃত শুন্যের (০) সাথে আরবরা ৫ লেখার জন্য যে চিহ্ন ব্যাবহার করতো তার মিল ছিল। ...

কার্ল ফ্রিডরিখ গাউস

 ল্যাপ্লাসকে যখন প্রশ্ন করা হতো জার্মানির সেরা গণিতবিদ কে ? , তার একটাই উত্তর ছিলো, ফ্যাফ(pfaff)। গাউস কে বাদ দিয়ে ফ্যাফ এর নাম শুনতে হবে এটা কোনো প্রশ্নকর্তা ই আশা করতেন না।  তারা যখন তাকে পুনরায় প্রশ্ন করতেন, তাহলে গাউস কী ?  ল্যাপ্লাসের উত্তর ছিলো, আরে ও তো ইউরোপের সেরা।   মর্ডান অ্যানালাইসিস এ সেরা তিনজনের ( ল্যাগ্রাঞ্জ, ল্যাপ্লাস,গাউস) একজন হলেন গাউস । গাউস ছিলেন এদের মধ্যে সবচেয়ে ছোট । তবে, গাউস এর কাজের মাধ্যমেই গণিতের নতুন যুগের সূচনা হয়েছিল ।  নতুন আবিস্কারের নেশা এবং সক্ষমতায় তিনি তার পূর্ববর্তী গণিতবিদদেরকে ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন। প্রমাণ এবং যথাযথ উপস্থাপনে একমাত্র গ্রিকদের সাথেই কেবল তার তুলনা চলে ।  মাত্র বিশ বছর বয়সেই উচ্চতর গণিতের পুরানো সব তত্ত্বকে  নতুন করে ব্যাখ্যা করেন এবং নতুন প্রমাণ পদ্ধতির মাধ্যমে সেগুলোকে সকলের সামনে তুলে ধরেন।  উপস্থাপনের সাবলীলতায় তিনি ল্যাপ্লাস এবং ল্যাগ্রাঞ্জকে ও ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন। তিনিই প্রথম ইনফিনিট সিরিজ(পূর্ণাঙ্গরুপে), ইলিপটিক ফাংশন এর ডাবল পিরিওডিসিটি,লিস্ট স্কয়ার মেথড, ডিটারমিনেন্ট এর সিস্টেমেটিক ব্যবহার...

লিওনার্দ অয়লার

 রাজা চতুর্দশ লুই এর সময় পার করে ইউরোপের গণিতের পতাকা এখন ফরাসিদের হাতে।  অন্যদিকে নিউটন আর লিবনিজ এর মৃত্যুর পরে ব্রিটেন আর জার্মানিতে গণিতের প্রদিপ নিভু নিভু করছে।   ১৭৩০ - ১৮২০ এই নব্বই বছর সময় হলো ফরাসি এবং সুইস গণিতের স্বর্ণযুগ যুগ।  এই সময় ফ্রান্সের ছিলো ল্যাগ্রাঞ্জ, ল্যাপ্লাস,লিজেন্ডার, মনগে। আর সুইজারল্যান্ডের ছিলো অয়লার।   বের্নুলি পরিবারের কারণে বাসেল এর নাম তখন গণিতবিদদের মুখে মুখে।  অন্যদিকে অয়লার এর কারণে তার সম্মান দ্বিগুণ হয়েছে।   অয়লার এর পিতা ছিলেন একজন যাজক।  তিনি জ্যাক বের্নুলির কাছে শিক্ষাগ্রহণ করেছেন।  মুলত, পিতার আগ্রহেই অয়লারের গণিতের জগতে প্রবেশ। ইউনিভার্সিটি অব বাসেলে পড়ার সময় জন বের্নুলি ছিলেন অয়লার এর শিক্ষক।   মাত্র উনিশ বছর বয়সে জাহাজের মাস্তল নিয়ে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করে ফরাসি বিজ্ঞান একাডেমির কাছ থেকে পুরস্কৃত হন।  ১৭২৭ সালে জন বের্নুলির দুই ছেলে ড্যানিয়েল এবং নিকোলাস বের্নুলি  অনুরোধে  রাশিয়ার রানি ক্যাথরিন  অয়লারকে সেন্ট পিটার্সবার্গে আমন্ত্রণ জানান।  ১৭৩৫ স...