গণিতের স্কুল - ১

 মিলেটাস এর থেলিসকে(খ্রীস্টপূর্ব ৬৪০-৫৪৬) বলা হয় 'সাতজন জ্ঞানী ব্যক্তি(Seven Sages of Greece)'র একজন। তিনি ছিলেন' আয়োনিক স্কুল ' (আয়োনিয়া পূর্বে গ্রিসের অন্তর্ভুক্ত ছিলো। বর্তমানে তুরস্কের অন্তর্ভুক্ত একটি অঞ্চল।)এর প্রতিষ্ঠাতা। তার সময়েই গ্রিসে জ্যামিতির চর্চা শুরু হয়। তরুণ বয়সে তিনি ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে মিশর গমন করেন এবং সেখানে মিশরিয় পন্ডিতদের কাছ থেকে গণিত ও ব্যবহারিক বিজ্ঞান বিষয়ে শিক্ষা লাভ করেন। 


অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তিনি গণিতে পারদর্শী হয়ে উঠেনএবং কোনো প্রকার যন্ত্রপাতি ছাড়াই পিরামিডের উচ্চতা পরিমাপ করে মিশরের রাজা আমেসিস কে চমকে দিয়েছিলেন । ডায়োজেনেসিস এর বর্ণনা অনুযায়ী , থেলিস একটি ছড়ি নিয়ে , ছড়ির দৈর্ঘ্য যখন এর ছায়ার দৈর্ঘ্যের সমান হয় তখন পিরামিডের ছায়ার দৈর্ঘ্য পরিমাপ করে পিরামিডের উচ্চতা পরিমাপ করেছিলেন । 


ইউডেমাস এর ' হিস্ট্রি অব জিওমেট্রি ' থেকে জানা যায়,


বিপ্রতীপ কোনদ্বয় পরস্পর সমান(আবিষ্কার করেছেন প্রমাণ করেননি। ) , সমদ্বিবাহু ত্রিভুজের বিপরীত কোণদ্বয় পরস্পর সমান, বৃত্তের ব্যস বৃত্তকে সমান দুইভাগে ভাগ করে, একটি ত্রিভুজের এক বাহু এবং সংলগ্ন / সন্নিহিত কোনদ্বয় অপর একটি ত্রিভুজের এক বাহু এবং সংলগ্ন কোনদ্বয় এর সমান হলে ত্রিভুজদ্বয় সর্বসম হবে (ধারণা করা হয় এই উপপাদ্যটি ব্যবহার করে তিনি তীর থেকে জাহাজের দুরত্ব পরিমাপ করেছিলেন। তবে সরাসরি এই উপপাদ্যটি ব্যবহার করে তীর থেকে জাহাজের দুরত্ব পরিমাপ করার কোনো প্রমাণিত পদ্ধতি নেই। ) প্রভৃতি উপপাদ্য সমূহের প্রমাণ থেলিস এর উল্লেখযোগ্য কাজ। 


"অনেকের মতে অর্ধবৃত্তস্থ কোন যে এক সমকোন এটা থেলিস প্রমাণ করেছিলেন। তবে, অন্যরা পীথাগোরাসকে কৃতিত্ব দিয়ে থাকেন।" 


ত্রিভুজের তিন কোনের সমষ্টি যে দুই সমকোণ ; এবং সমান সমান কোণ বিশিষ্ট ত্রিভুজের বাহুগুলো যে সমান হয় ; এর সম্পর্কে তিনি জানতেন। এছাড়াও অন্যান্য উপপাদ্যগুলো  সম্পর্কেও তার ধারণা ছিলো। 


থেলিস এর সময় থেকেই জ্যোর্তিবিজ্ঞান চর্চা শুরু হয়। ৫৮৫ খ্রিস্টপূর্বাব্দের সূর্যগ্রহন সম্পর্কে সঠিক ধারণা করে তিনি ব্যপক খ্যাতি অর্জন করেন। তবে নির্দিষ্ট দিন বলতে পেরেছিলেন কিনা তা জানা যায়নি। 


এক সন্ধ্যায় আকাশের দিকে তাকিয়ে হাটার সময় তিনি গর্তে পড়ে যান। তখন এক বৃদ্ধা তাকে লক্ষ করে বলে উঠেন,


" পায়ের তলায় কি হচ্ছে যে জানে না , স্বর্গের খবর সে কি করে জানবে ? " 


থেলিস এর দুইজন বিখ্যাত শিষ্য হলেন, অ্যানাক্সিম্যান্ডার(খ্রীস্টপূর্ব ৬১১) এবং অ্যানাক্সিমেনেস(খ্রীস্টপূর্ব ৫৭০)। অ্যানাক্সাগোরাস ছিলেন অ্যানাক্সিমেনেস এর শিষ্য। তিনি ছিলেন আয়োনিক স্কুলের সর্বশেষ দার্শনিক । তার সম্পর্কে খুব অল্পই আমরা জানতে পেরেছি। তিনিই প্রথম বৃত্তকে ববর্গীকরণ করার চেষ্টা করেছিলেন। এই সমস্যাকে কেন্দ্র করেই পরবর্তীতে পাই(π) এর সঠিক মান বের করা নিয়ে ব্যপক তোড়জোড় শুরু হয়। অ্যানাক্সাগোরাস বৃত্তকে ববর্গীকরণ করতে পারেননি। তবে, পাই (π) এই নির্ভুল মান বের করার পথে আমাদেরকে একধাপ এগিয়ে দিয়েছেন। 


আয়োনিক স্কুল টিকে ছিলো প্রায় একশো বছর। যা পরবর্তীতে পীথাগোরিয়ান স্কুল এর প্রেরণা জোগায়।

Comments

Popular posts from this blog

শুন্য কিভাবে এলো

কার্ল ফ্রিডরিখ গাউস

আর্কিমিডিস