Skip to main content

১ এর গল্প

 ফিলোলাস এর মতে,

' সংখ্যা প্রধানত দুই প্রকার। ইভেন এবং অড, এবং ইভেন-অড নামে তৃতিয় একধরনের সংখ্যা পাওয়া যায় যারা এই দুটি সংখ্যার উদ্ভুত। এদের প্রত্যেকেরই আলাদা প্রকরণ আছে।'


ইভেন এবং অড নাম্বার এর পীথাগোরিয়ান সজ্ঞা হলো ,


' যে সংখ্যাকে দুটি সমান ভাগে বিভক্ত করা যায় সেটা ইভেন নাম্বার। আর, যে সংখ্যাকে সমান ভাগে বিভক্ত করা যায়না সেটি অড নাম্বার। '


নিকোমিকাসের মতে, 


'ইভেন নাম্বারকে সমান এবং অসমান এই দুই ভাবেই ভাগ করা সম্ভব। কিন্তু, অড নাম্বারকে শুধু অসমান অংশে ভাগ করা সম্ভব এবং যেকোনো অসমান অংশের একটি হবে জোড় এবং অপরটি বিজোড়। '


নিকোমিকাসের এই সজ্ঞার সমস্যা হলো দুই তাহলে কি ? যেহেতু, ১+১=২। এবং দুইকে অসমান অংশে ভাগ করা যায়না। দুইকে সংখ্যা নয় জোড় সংখ্যা গঠনের উপাদান ধরা হয় । ২ কে মৌলিক সংখ্যা হিসেবেও প্রথমে মেনে নেয়া হয়নি। 


প্লেটো ২ কে জোড় সংখ্যা হিসেবেই নিয়েছেন। আর, এরিস্টটল বললেন ২ একমাত্র জোড় মৌলিক সংখ্যা। ইউক্লিড মৌলিক সংখ্যার সজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন, ' যে সংখ্যাকে শুধু এক দ্বারা ভাগ করা যায়।' আর, 'যৌগিক সংখ্যাকে অন্য সংখ্যা দ্বারাও ভাগ করা যায়।' আর, 'কোপ্রাইম নাম্বার এর কমন উৎপাদক হলো এক।' ইউক্লিডও এরিস্টটলের মতো, ২ কে প্রাইম নাম্বার হিসেবেই ধরেছিলেন। 


যদিও প্লেটো এক কে সংখ্যা হিসেবে ধরেননি। তার রিপাবলিক গ্রন্থে তিনি প্রশ্ন করেছেন, 

' এক এবং সংখ্যার শ্রেণীবিন্যাস কি হবে ? ' অর্থাৎ, তিনি বোঝাতে চেয়েছেন এদের অবস্থান হবে ভিন্ন।


এখানেই আসে অড-ইভেন টার্মটি । এরিস্টটল বলেন, পীথাগোরিয়ানরা ১ কে অড এবং ইভেন দুটিই মনে করতো। 


পীথাগোরিয়ানদের এই অদ্ভুত ভাবনার কারণ হলো, এক যেহেতু সকল সংখ্যার(অড এবং ইভেন) মূল উৎস তাই এটি অড-ইভেন নাম্বার।

আবার, ইভেন নাম্বারকে 2^n । অর্থাৎ, দুই এর পাওয়ার হিসেবে লিখা যায়। এখন, 2^0 = 1. 

আবার, প্লেটোর 'অড টাইমস্ ইভেন' এর সজ্ঞাও এক এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। 


তবে নিকোমিকাস এককে সংখ্যা থেকে বাদ না দিয়ে শুধু মাত্র পলিগোনাল নাম্বার থেকে বাদ দেয়ার কথা বলেছিলেন। 


ষোড়শ শতকে সংখ্যা হিসেবে এক কে বিবেচনা করার জন্য বেশ তোড়জোড় শুরু হয়।

সাইমন স্টিভেন এদের মধ্যে অগ্রগামী ছিলেন, তিনি বলেন, সম্পুর্ন অংশের যে বৈশিষ্ট্য, তার থেকে একটি অংশ কেটে নিলেও সেই একই বৈশিষ্ট্য প্রদর্শন করেন। যেহেতু, অনেকগুলো মিলে একটি সংখ্যা হয় এবং এবং এক তার একটি অংশ; তাই এক একটি সংখ্যা। এই যুক্তির বিপক্ষে আন্তোইন আরনল্ড যুক্তি দেখান, অর্ধবৃত্ত বৃত্ত নয়।

সাইমন স্টিভেন এবার যুক্তি দেন,

কোনো সংখ্যা থেকে যদি যেটি সংখ্যা নয় সেটি বিয়োগ করা হয় তাহলে ঐ সংখ্যাই পাওয়া যায়। কিন্তু, ধরো, যদি আমরা ৩ থেকে ১ বিয়োগ করি তাহলে ৩ আর পাওয়া যায়না। সুতরাং, ১ সংখ্যা নয় এইকথা ঠিক নয়।


Comments

Popular posts from this blog

শুন্য কিভাবে এলো

 অন্য সব সংখ্যার মতোই শুন্য এর উৎপত্তি কবে থেকে সেটা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শুন্য ছাড়া এই উপমহাদেশের (hindu numerals) সংখ্যা পদ্ধতির সাথে অন্য সংখ্যা পদ্ধতির পার্থক্য সামান্য। অন্য সংখ্যার সাথে শুন্য এর প্রধান পার্থক্য এর স্থানিক মানে। ভারতীয় উপমহাদেশে শুন্য এর সবচেয়ে প্রাচীন এবং নির্ভরযোগ্য নিদর্শন পাওয়া যায় ৮৭৬ সালের এক শিলালিপিতে। গোয়ালিয়রে প্রাপ্ত এই শিলালিপিতে ৫০ এবং ২৭০ সংখ্যা দুটি লিখা ছিল শুন্য ব্যবহার করে। তবে শুন্য এর ইতিহাস আরও প্রাচীন। ব্যাবিলনীয়রা সংখ্যার অনুপস্থিতি নির্দেশ করার জন্য আলাদা চিহ্ন ব্যবহার করত। তবে বর্তমানে আমরা যে কাজে শুন্য ব্যাবহার করে থাকি, ব্যাবিলনীয় সংখ্যা পদ্ধতিতে তার কোনো ব্যবহার ছিলো না। গ্রিক পান্ডুলিপিতে স্থানিক মানের কিছু ব্যবহার দেখা যায়। ডিওফ্যান্টাস এর কাজে স্থানিক মানের প্রমান মিলে।  গ্রিকরা ওমিক্রন (O) চিহ্ন দ্বারা গর্ত নির্দেশ করতো। ব্রাক্ষ্মি লিপিতে শিং বিশিষ্ট একধরনের বৃত্তের(ছবি দ্রষ্টব্য) ব্যবহার দেখা যায়। যা ১০ নির্দেশ করতো। এই উপমহাদেশে ব্যবহৃত শুন্যের (০) সাথে আরবরা ৫ লেখার জন্য যে চিহ্ন ব্যাবহার করতো তার মিল ছিল। ...

কার্ল ফ্রিডরিখ গাউস

 ল্যাপ্লাসকে যখন প্রশ্ন করা হতো জার্মানির সেরা গণিতবিদ কে ? , তার একটাই উত্তর ছিলো, ফ্যাফ(pfaff)। গাউস কে বাদ দিয়ে ফ্যাফ এর নাম শুনতে হবে এটা কোনো প্রশ্নকর্তা ই আশা করতেন না।  তারা যখন তাকে পুনরায় প্রশ্ন করতেন, তাহলে গাউস কী ?  ল্যাপ্লাসের উত্তর ছিলো, আরে ও তো ইউরোপের সেরা।   মর্ডান অ্যানালাইসিস এ সেরা তিনজনের ( ল্যাগ্রাঞ্জ, ল্যাপ্লাস,গাউস) একজন হলেন গাউস । গাউস ছিলেন এদের মধ্যে সবচেয়ে ছোট । তবে, গাউস এর কাজের মাধ্যমেই গণিতের নতুন যুগের সূচনা হয়েছিল ।  নতুন আবিস্কারের নেশা এবং সক্ষমতায় তিনি তার পূর্ববর্তী গণিতবিদদেরকে ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন। প্রমাণ এবং যথাযথ উপস্থাপনে একমাত্র গ্রিকদের সাথেই কেবল তার তুলনা চলে ।  মাত্র বিশ বছর বয়সেই উচ্চতর গণিতের পুরানো সব তত্ত্বকে  নতুন করে ব্যাখ্যা করেন এবং নতুন প্রমাণ পদ্ধতির মাধ্যমে সেগুলোকে সকলের সামনে তুলে ধরেন।  উপস্থাপনের সাবলীলতায় তিনি ল্যাপ্লাস এবং ল্যাগ্রাঞ্জকে ও ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন। তিনিই প্রথম ইনফিনিট সিরিজ(পূর্ণাঙ্গরুপে), ইলিপটিক ফাংশন এর ডাবল পিরিওডিসিটি,লিস্ট স্কয়ার মেথড, ডিটারমিনেন্ট এর সিস্টেমেটিক ব্যবহার...

লিওনার্দ অয়লার

 রাজা চতুর্দশ লুই এর সময় পার করে ইউরোপের গণিতের পতাকা এখন ফরাসিদের হাতে।  অন্যদিকে নিউটন আর লিবনিজ এর মৃত্যুর পরে ব্রিটেন আর জার্মানিতে গণিতের প্রদিপ নিভু নিভু করছে।   ১৭৩০ - ১৮২০ এই নব্বই বছর সময় হলো ফরাসি এবং সুইস গণিতের স্বর্ণযুগ যুগ।  এই সময় ফ্রান্সের ছিলো ল্যাগ্রাঞ্জ, ল্যাপ্লাস,লিজেন্ডার, মনগে। আর সুইজারল্যান্ডের ছিলো অয়লার।   বের্নুলি পরিবারের কারণে বাসেল এর নাম তখন গণিতবিদদের মুখে মুখে।  অন্যদিকে অয়লার এর কারণে তার সম্মান দ্বিগুণ হয়েছে।   অয়লার এর পিতা ছিলেন একজন যাজক।  তিনি জ্যাক বের্নুলির কাছে শিক্ষাগ্রহণ করেছেন।  মুলত, পিতার আগ্রহেই অয়লারের গণিতের জগতে প্রবেশ। ইউনিভার্সিটি অব বাসেলে পড়ার সময় জন বের্নুলি ছিলেন অয়লার এর শিক্ষক।   মাত্র উনিশ বছর বয়সে জাহাজের মাস্তল নিয়ে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করে ফরাসি বিজ্ঞান একাডেমির কাছ থেকে পুরস্কৃত হন।  ১৭২৭ সালে জন বের্নুলির দুই ছেলে ড্যানিয়েল এবং নিকোলাস বের্নুলি  অনুরোধে  রাশিয়ার রানি ক্যাথরিন  অয়লারকে সেন্ট পিটার্সবার্গে আমন্ত্রণ জানান।  ১৭৩৫ স...