Skip to main content

ম্যাথেমেটিক্স শব্দটি কিভাবে এলো

 এরিস্টটলের পূর্বে ম্যাথেমাটা এবং ম্যাথেমেটিকোস শব্দ দ্বারা বিশেষ ভাবে গণিত এবং গণিত সম্পর্কিত কোনো বিষয়কে বোঝানো হতো না। প্লেটো 'ম্যাথেমা' শব্দটিকে 'অধ্যয়নের বিষয়' অর্থে ব্যবহার করেছিলেন। তার মতে, কায়া ম্যাথেমাটা, কায়া এপিটিডেভমাটা, অর্থাৎ, সুশিক্ষা কেবল সাধনার মাধ্যমে অর্জন করা সম্ভব। পয়সার মাধ্যমে নয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ 'ম্যাথেমা' হলো "the idea of good." অর্থাৎ, ভালো মন্দ বিচার করতে পারার ক্ষমতা। তার Laws বইতে তিনি তিনটি 'ম্যাথেমাটা''র কথা উল্লেখ করেন (অ্যারিথমেটিক, জ্যামিতি এবং জোর্তিবিদ্যা)। তখন থেকেই নির্দিষ্টভাবে এই বিষয়গুলোকে ম্যাথেমাটা নামে ডাকা শুরু হয়। কেন এই নামেই এই বিষয়গুলোকে ডাকতে হবে অ্যারিস্টটল এর শিষ্যরা তার একটি সুন্দর ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাদের মতে, বক্তৃতা, কবিতার মতো দার্শনিক বিষয়ের অনুধাবন এর জন্য পূর্বের থেকে জ্ঞান থাকা জরুরী নয়। কিন্তু, ম্যাথেমাটা নামের বিষয়টিকে বুঝতে হলে প্রথমে কতগুলো নির্দিষ্ট নিয়মের মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। এই কারণে এর বিদ্যাকে বলা হয় ম্যাথেমেটিকি। 'ম্যাথেমেটিকি' শব্দটির উৎপত্তি মূলত পীথাগোরিয়ান স্কুল থেকে। পীথাগোরিয়ান স্কুল এর পন্ডিতরা , যারা জ্ঞান সম্পর্কে গভীর ধারণা রাখতেন তাদেরকে বলা হতো 'ম্যাথেমেটিকোই'। এই শব্দটি 'একোনিয়াস'(সাধারণ চলাফেরার মাধ্যমে আয়াসসাধ্য উপায়ে যে জ্ঞান অর্জিত হয়। যার কোনো শুদ্ধ প্রমাণ নেই।) এর বিপরীত শব্দ। যেহেতু, পীথাগোরিয়ান দর্শন এর মূলে আছে গণিত তাই এটা বলার অপেক্ষা রাখে না 'মাথেমেটিকি' শব্দটি দ্বারা গণিতের বিষয়গুলোকে বুঝানো হচ্ছে। পীথাগোরাসের অনুসারীরা অ্যারিথমেটিক আর জ্যামিতিকে একত্রে 'ম্যাথেমেটিকি' বলতো। যদিও, এই দুটি বিষয় এর জন্য আলাদা নাম ছিলো। 'ম্যাথেমাটা' শব্দটি যে বিশেষভাবে গণিত বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত তার সম্পর্কে খন্ড খন্ড ধারণা পাওয়া যায় প্লেটোর বন্ধু অ্যাকিটাস এর উক্তির মাধ্যমে। যিনি একজন পীথাগোরিয়ান।


" আমি মনে করি   'ম্যাথেমাটা' বিষয়ে জ্ঞান সম্পন্ন ব্যাক্তিরা বিশ্ব এবং প্রকৃতি সম্পর্কে সঠিক ধারণায় পৌছাতে পেরেছে। তারা এটার যোগ্য। তাদের কারণেই আমরা তারার গতি , অস্ত এবং উদয়, জ্যামিতি, অ্যারিথমেটিক, গোলাকার বস্তু (জোর্তিবিদ্যা) এবং সংগীত সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান পেয়েছি। 'ম্যাথেমাটা'গুলো একে অপরের সাথে সম্পর্কিত। "

N.B.

প্লেটোর মতে অ্যারিথমেটিক হলো সংখ্যার জ্ঞান। যাকে আমরা থিওরি অব নাম্বার বলি। তবে প্লেটো পাটিগণিতকে(এটাকে তিনি বলেছেন আর্ট অব ক্যালকুলেশন) ও হিসাব থেকে বাদ দেননি। তার মতে,

'The art of calculation and arithmetic are both concerned with number '; those who have a natural gift for calculation have, a talent for learning of all kinds,and even those who are slow are, by practice in it, made smarter.'
📖 (.রিপাবলিক. প্লেটো.)📖

প্লেটোর মতে art of calculation (accounting) হলো প্রস্তুতি মাত্র। শুধুমাত্র ব্যাবসা বানিজ্যের উদ্দেশ্যে নয়; যারা এ বিষয়ে সম্পুর্ন জ্ঞান অর্জন করতে চায় তাদেরকে অবশ্যই সংখ্যার প্রকৃতি সম্পর্কে গভীর জ্ঞান রাখতে হবে।

প্লেটোর সময়ে ই অ্যারিথমেটিক (theory of number) এবং art of calculation (accounting) এর মধ্যে যে মৌলিক ব্যাবধান সেটা সুপ্রতিষ্ঠিত ছিলো।  

Comments

Popular posts from this blog

শুন্য কিভাবে এলো

 অন্য সব সংখ্যার মতোই শুন্য এর উৎপত্তি কবে থেকে সেটা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শুন্য ছাড়া এই উপমহাদেশের (hindu numerals) সংখ্যা পদ্ধতির সাথে অন্য সংখ্যা পদ্ধতির পার্থক্য সামান্য। অন্য সংখ্যার সাথে শুন্য এর প্রধান পার্থক্য এর স্থানিক মানে। ভারতীয় উপমহাদেশে শুন্য এর সবচেয়ে প্রাচীন এবং নির্ভরযোগ্য নিদর্শন পাওয়া যায় ৮৭৬ সালের এক শিলালিপিতে। গোয়ালিয়রে প্রাপ্ত এই শিলালিপিতে ৫০ এবং ২৭০ সংখ্যা দুটি লিখা ছিল শুন্য ব্যবহার করে। তবে শুন্য এর ইতিহাস আরও প্রাচীন। ব্যাবিলনীয়রা সংখ্যার অনুপস্থিতি নির্দেশ করার জন্য আলাদা চিহ্ন ব্যবহার করত। তবে বর্তমানে আমরা যে কাজে শুন্য ব্যাবহার করে থাকি, ব্যাবিলনীয় সংখ্যা পদ্ধতিতে তার কোনো ব্যবহার ছিলো না। গ্রিক পান্ডুলিপিতে স্থানিক মানের কিছু ব্যবহার দেখা যায়। ডিওফ্যান্টাস এর কাজে স্থানিক মানের প্রমান মিলে।  গ্রিকরা ওমিক্রন (O) চিহ্ন দ্বারা গর্ত নির্দেশ করতো। ব্রাক্ষ্মি লিপিতে শিং বিশিষ্ট একধরনের বৃত্তের(ছবি দ্রষ্টব্য) ব্যবহার দেখা যায়। যা ১০ নির্দেশ করতো। এই উপমহাদেশে ব্যবহৃত শুন্যের (০) সাথে আরবরা ৫ লেখার জন্য যে চিহ্ন ব্যাবহার করতো তার মিল ছিল। ...

কার্ল ফ্রিডরিখ গাউস

 ল্যাপ্লাসকে যখন প্রশ্ন করা হতো জার্মানির সেরা গণিতবিদ কে ? , তার একটাই উত্তর ছিলো, ফ্যাফ(pfaff)। গাউস কে বাদ দিয়ে ফ্যাফ এর নাম শুনতে হবে এটা কোনো প্রশ্নকর্তা ই আশা করতেন না।  তারা যখন তাকে পুনরায় প্রশ্ন করতেন, তাহলে গাউস কী ?  ল্যাপ্লাসের উত্তর ছিলো, আরে ও তো ইউরোপের সেরা।   মর্ডান অ্যানালাইসিস এ সেরা তিনজনের ( ল্যাগ্রাঞ্জ, ল্যাপ্লাস,গাউস) একজন হলেন গাউস । গাউস ছিলেন এদের মধ্যে সবচেয়ে ছোট । তবে, গাউস এর কাজের মাধ্যমেই গণিতের নতুন যুগের সূচনা হয়েছিল ।  নতুন আবিস্কারের নেশা এবং সক্ষমতায় তিনি তার পূর্ববর্তী গণিতবিদদেরকে ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন। প্রমাণ এবং যথাযথ উপস্থাপনে একমাত্র গ্রিকদের সাথেই কেবল তার তুলনা চলে ।  মাত্র বিশ বছর বয়সেই উচ্চতর গণিতের পুরানো সব তত্ত্বকে  নতুন করে ব্যাখ্যা করেন এবং নতুন প্রমাণ পদ্ধতির মাধ্যমে সেগুলোকে সকলের সামনে তুলে ধরেন।  উপস্থাপনের সাবলীলতায় তিনি ল্যাপ্লাস এবং ল্যাগ্রাঞ্জকে ও ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন। তিনিই প্রথম ইনফিনিট সিরিজ(পূর্ণাঙ্গরুপে), ইলিপটিক ফাংশন এর ডাবল পিরিওডিসিটি,লিস্ট স্কয়ার মেথড, ডিটারমিনেন্ট এর সিস্টেমেটিক ব্যবহার...

লিওনার্দ অয়লার

 রাজা চতুর্দশ লুই এর সময় পার করে ইউরোপের গণিতের পতাকা এখন ফরাসিদের হাতে।  অন্যদিকে নিউটন আর লিবনিজ এর মৃত্যুর পরে ব্রিটেন আর জার্মানিতে গণিতের প্রদিপ নিভু নিভু করছে।   ১৭৩০ - ১৮২০ এই নব্বই বছর সময় হলো ফরাসি এবং সুইস গণিতের স্বর্ণযুগ যুগ।  এই সময় ফ্রান্সের ছিলো ল্যাগ্রাঞ্জ, ল্যাপ্লাস,লিজেন্ডার, মনগে। আর সুইজারল্যান্ডের ছিলো অয়লার।   বের্নুলি পরিবারের কারণে বাসেল এর নাম তখন গণিতবিদদের মুখে মুখে।  অন্যদিকে অয়লার এর কারণে তার সম্মান দ্বিগুণ হয়েছে।   অয়লার এর পিতা ছিলেন একজন যাজক।  তিনি জ্যাক বের্নুলির কাছে শিক্ষাগ্রহণ করেছেন।  মুলত, পিতার আগ্রহেই অয়লারের গণিতের জগতে প্রবেশ। ইউনিভার্সিটি অব বাসেলে পড়ার সময় জন বের্নুলি ছিলেন অয়লার এর শিক্ষক।   মাত্র উনিশ বছর বয়সে জাহাজের মাস্তল নিয়ে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করে ফরাসি বিজ্ঞান একাডেমির কাছ থেকে পুরস্কৃত হন।  ১৭২৭ সালে জন বের্নুলির দুই ছেলে ড্যানিয়েল এবং নিকোলাস বের্নুলি  অনুরোধে  রাশিয়ার রানি ক্যাথরিন  অয়লারকে সেন্ট পিটার্সবার্গে আমন্ত্রণ জানান।  ১৭৩৫ স...