Skip to main content

পারফেক্ট নাম্বার কেন পারফেক্ট

 




নিকোমিকাসের Arithmetica থেকে,


" সুন্দর এবং চমৎকার বস্তুগুলো বিরল। কিন্তু, কুৎসিত এবং মন্দগুলো অসংখ্য। ঠিক তেমনি অতিরিক্ত (excessive)* ও ত্রুটিপূর্ণ (defective)* অনেক সংখ্যার সন্ধান পাওয়া যায়, এগুলো বিশৃঙখ ল এবং কোনো নিয়ম অনুযায়ী এগুলো আবিস্কৃত হয়নি।কিন্তু, *নিখুঁতগুলো........., এরা এককের ঘরে একটি (৬),দশকের মধ্যে মাত্র একটি (২৮), তৃতীয়টি শতকের গভীরে (৪৯৬), চতুর্থটি সহস্রে (৮১২৮).......। এই সংখ্যাগুলোর সাধারণ ধর্ম, সংখ্যাগুলোর শেষ* অংক ৬ অথবা ৮, এবং এগুলো অবশ্যই even number.* "


* ১৬ এর উৎপাদক (১,২,৪,৮) গুলোর যোগফলের থেকে বড়, তাই এই ধরণের সংখ্যাগুলোকে বলা হয় excessive. 


* ১৮ এর উৎপাদকগুলোর(১,২,৩,৬,৯) যোগফল ১৮ থেকে বেশি, তাই এই ধরনের সংখ্যাগুলোকে বলা হয় defective.


* ৬,২৮,৪৯৬,৮১২৮,....... সংখ্যাগুলো তার নিজ নিজ উৎপাদকগুলোর যোগফল এর সমান, তাই এরা Perfect Number. 


এখন, পর্যন্ত প্রাপ্ত সকল perfect number ই even number এবং এরা ইউক্লিড এর দাবি , 

2^n {2^(n+1) - 1} মেনে চলে। শর্ত হলো, দ্বিতীয় উৎপাদকটিকে [ {2^(n+1) - 1} ] মৌলিক হতে হবে। 


মজার ব্যাপার হলো ইউক্লিড এর এই দাবিটি প্রায় ২২০০ বছর পরে সুইস গণিতবিদ লিওনার্দ অয়লার even perfect number এর জন্য প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন।

কোনো odd perfect number এখনো পাওয়া যায়নি। তাই, odd number এর ক্ষেত্রে এর বৈশিষ্ট্য এখনো অজানা।


পরিশেষে, perfect number নিয়ে সেন্ট অগাস্টিন এর কথা না উল্লেখ করলে perfect number নিয়ে লেখাটি perfect হবেনা। 


" ছয় সংখ্যাটি নিজগুণেই নিখুঁত ; ঈশ্বর ছয় দিনে সমস্ত বস্ত সৃষ্টি করেছিলেন সেই জন্যি এটা নিখুঁত নয়, বরং এর বিপরীত বক্তব্যই সত্য। ঈশ্বর ছয় দিনে সমস্ত বস্ত সৃষ্টি করেছিলেন, কারণ এই সংখ্যাটি নিখুঁত। এমন কি এই ছয় দিনের কাজের কোনো অস্তিত্ব না থাকলেও এই সংখ্যাটি নিখুঁত হতো। " 


"The laws of nature are but the mathematical thoughts of God" 

. EUCLEDE.



Comments

Popular posts from this blog

কার্ল ফ্রিডরিখ গাউস

 ল্যাপ্লাসকে যখন প্রশ্ন করা হতো জার্মানির সেরা গণিতবিদ কে ? , তার একটাই উত্তর ছিলো, ফ্যাফ(pfaff)। গাউস কে বাদ দিয়ে ফ্যাফ এর নাম শুনতে হবে এটা কোনো প্রশ্নকর্তা ই আশা করতেন না।  তারা যখন তাকে পুনরায় প্রশ্ন করতেন, তাহলে গাউস কী ?  ল্যাপ্লাসের উত্তর ছিলো, আরে ও তো ইউরোপের সেরা।   মর্ডান অ্যানালাইসিস এ সেরা তিনজনের ( ল্যাগ্রাঞ্জ, ল্যাপ্লাস,গাউস) একজন হলেন গাউস । গাউস ছিলেন এদের মধ্যে সবচেয়ে ছোট । তবে, গাউস এর কাজের মাধ্যমেই গণিতের নতুন যুগের সূচনা হয়েছিল ।  নতুন আবিস্কারের নেশা এবং সক্ষমতায় তিনি তার পূর্ববর্তী গণিতবিদদেরকে ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন। প্রমাণ এবং যথাযথ উপস্থাপনে একমাত্র গ্রিকদের সাথেই কেবল তার তুলনা চলে ।  মাত্র বিশ বছর বয়সেই উচ্চতর গণিতের পুরানো সব তত্ত্বকে  নতুন করে ব্যাখ্যা করেন এবং নতুন প্রমাণ পদ্ধতির মাধ্যমে সেগুলোকে সকলের সামনে তুলে ধরেন।  উপস্থাপনের সাবলীলতায় তিনি ল্যাপ্লাস এবং ল্যাগ্রাঞ্জকে ও ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন। তিনিই প্রথম ইনফিনিট সিরিজ(পূর্ণাঙ্গরুপে), ইলিপটিক ফাংশন এর ডাবল পিরিওডিসিটি,লিস্ট স্কয়ার মেথড, ডিটারমিনেন্ট এর সিস্টেমেটিক ব্যবহার...

ডমরু-চরিত (১৯২৩) - ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়

ডমরু-চরিতে একজন মহাকৃপণ, ধূর্ত, অর্থলোভী, সুযোগ-সন্ধানী এবং তৎসহ প্রবঞ্চক অথচ বুদ্ধিমান, সাহসী, কার্যপটু ব্যক্তির চোখ দিয়ে জগৎ-দর্শন করিয়েছেন গ্রন্থকার। ডমরুধর শঠ, প্রবঞ্চক, ফন্দিবাজ - এক কথায় একটি ডার্ক ক্যারেক্টার। ব্যঙ্গের সঙ্গে উদ্ভট রসের আশ্চর্য মিশ্রণেই এই বইয়ের আসল মজা। আসলে যুগটাই ছিল ব্যঙ্গ রচনার অনুকূল। সবসময় সবরকম যুগ পরিবেশে ব্যঙ্গ সাহিত্যের উদ্ভব হয় না। একধরনের সংশয়বোধ, মানসিক দ্বিধা, চিন্তার দোদুল্যমানতা ব্যঙ্গ সাহিত্যের জন্ম দিয়ে থাকে। এ প্রসঙ্গে শিশিরকুমার দাস বলেছেনঃ সমাজে যখন ভাঙন আরম্ভ হয়, যখন স্থির অবিচলিত সত্যগুলি পরিবর্তনের স্রোতে ভেসে যেতে থাকে তখনই ব্যঙ্গের সূচনা। লেখক খুব সাধারণ, হাস্যরসাত্মক চালে গল্পগুলো বলা শুরু করেন, কিন্তু হঠাৎ হঠাৎ গল্পের ভেতরে এমন এক গভীর সামাজিক সত্য বা মানব চরিত্রের স্বার্থপরতার রূপ উন্মোচন করেন, যা পাঠককে একাধারে হাসায় এবং ভাবিয়ে তোলে। বইটিতে অন্যায়কারীর বয়ানে ঘটনাগুলোকে দেখানো হয়েছে। অপরাধী মনে করে সে যথেষ্ট উচিত কাজ করছে, তার দোষ ধরা কোনোভাবেই উচিত নয়। যার ফলে পাঠকের কাছে চরিত্রটির অসাড়তা ও মানবসমাজের স্বার্...

ফিল্ডস মেডাল

 MIT এর জেনিটর উইল হান্টিং এর কথা মনে আছে । যে গণিত বিভাগের  নোটিশ বোর্ডে ঝুলিয়ে রাখা কঠিন কঠিন গাণিতিক সমস্যা গুলোর সমাধান লুকিয়ে লুকিয়ে  করে দিয়ে যেতো । আর, প্রফেসর জেরাল্ড খুঁজে বের করার চেষ্টা করতেন কে এই জিনিয়াস । 'গুড উইল হান্টিং' সিনেমায় প্রফেসর জেরাল্ড  "ফিল্ডস মেডাল " জয় করেন। যদিও সিনেমায় তার বয়স কোনক্রমেই চল্লিশের কম মনে হয়নি ।  গণিতে অবদানের স্বীকৃতি স্বরুপ এবং ভবিষ্যতে গবেষককে গবেষণা কাজে আরও উৎসাহিত করতে এই পুরস্কার প্রদান করা হয় । চার বছর পর পর  পুরস্কার প্রদান করা হয় । একবারে কমপক্ষে দুইজন এবং  সর্বোচ্চ চারজনকে এই পুরস্কার দেয়া হয়। যে বছর পুরস্কার দেয়া হবে ঐ বছরের জানুয়ারির ১ তারিখে বয়স অনধিক চল্লিশ হতে হবে।  পুরস্কারের অর্থমূল্য ১৫০০০ কানাডিয়ান ডলার।  এর সাথে  ৫,৫০০ কানাডিয়ান ডলার মূল্যের একটি স্বর্ণপদক প্রদান করা হয় ।  প্রতি চার বছর অন্তর অন্তর IMU এর কংগ্রেসের শুরুর দিনে ফিল্ডস মেডাল প্রদান করা হয়।  গণিতবিদ জে সি ফিল্ডস এর নাম অনুসারে একে ফিল্ডস মেডাল বলা হলেও, এর অফিসিয়াল নাম, "International medals for outst...