Skip to main content

Posts

তেইশ নম্বর তৈলচিত্র - আলাউদ্দিন আল আজাদ

তেইশ নম্বর তৈলচিত্র একটি মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস। উপন্যাসের প্রধান অনুষঙ্গ শিল্পীর জীবন-যাপন, চিন্তা ও কল্পনাবিশ্ব। একজন চিত্রশিল্পীর মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ এবং তার জীবন ও প্রেমকে কেন্দ্র করে এ উপন্যাসের ঘটনা আবর্তিত হয়েছে। উপন্যাসটিতে শিল্পীর মনস্তত্ত্ব ছাড়াও শিল্পের বিশেষ বিশেষ কিছু দিক লেখক অত্যন্ত সাবলীলভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। আমাদের সমাজে একটি ধারণা প্রচলিত রয়েছে—শিল্পী যদি সংসারের বাঁধনে বাধা পড়েন, তাহলে নাকি তার সৃষ্টিকর্মে ব্যাঘাত ঘটে। এ ধারণাটির পক্ষের ও বিপক্ষের মতামতগুলো ঔপন্যাসিক তাঁর নিজস্ব দক্ষতায় বিশ্লেষণ করেছেন এই উপন্যাসে। জীবনজিজ্ঞাসার ক্ষেত্রে একটি বড় দর্শনও প্রকাশ করেছেন লেখক। জাহেদকে দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, যে ঘটনায় ব্যক্তির দোষ নেই, সে ঘটনার জন্য তাকে দায়ী করা যায় না; দেওয়া যায় না শাস্তিও। বরং সেখানে ক্ষমাই শ্রেয়। শিল্প ও জীবনের সম্পর্ককে লেখক যে দৃষ্টিতে দেখেছেন, তা উপন্যাসটিকে সাধারণ প্রেমকাহিনির সীমা অতিক্রম করে একটি শিল্প-দর্শনভিত্তিক রচনায় পরিণত করেছে। তথ্যসূত্র ১. আলাউদ্দিন আল আজাদ, তেইশ নম্বর তৈলচিত্র , আহমদ পাবলিশিং হাউজ, ঢাকা, ২০১৪। ২....

বিপিনের সংসার - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

 পিতার রেখে যাওয়া সব সম্পত্তি খুইয়েও উড়নচণ্ডী বিপিনের হুশ হয়না। কাজেকর্মে মনোযোগ নেই। সংসারের দায়িত্বের প্রতি উদাসিন। এহেন পরিস্থিতিতে তার ছোট ভাই বিনোদ কিশোর বয়সেই সংসারের জোয়াল নিজের কাধে তুলে নেয়। কিন্ত, অতিরিক্ত পরিশ্রমের কারণে দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে সংসারের খরচ চালানো দায় হয়ে পড়ে। রোজ রোজ স্ত্রী মনোরমার বাকা কথা হজম করতে না পেরে অনিচ্ছা স্বত্বেও পিতার কর্মস্থল অনাদি চৌধুরির জমিদারিতে নায়েবের দায়িত্ব নেয়। কিন্ত, প্রজাদের অত্যাচার করে খাজনা আদায়ে তার মন সায় দেয়না।   বিপিন তার ভাই বিনোদের মৃত্যুর পরে জমিদারের মেয়ে, তার ছোটবেলার খেলার সাথী মানীর উৎসাহে  নায়েবী ছেড়ে রোগী দেখা শুরু করে। ডাক্তারী বিদ্যায় তার সম্বল মানীর দেয়া চিকিৎসা শাস্ত্রের একটিমাত্র বই।  আবেগি বিপিন নারীর স্নেহ পেলে গলে যায়। বিপিনের জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো তার চিন্তাজগৎ। সাংসারিক দায়িত্ব ও অভাবের গণ্ডির বাইরে গিয়ে তার মন বিভিন্ন স্বপ্নের রাজ্যে বিচরণ করে। এ সময় তার জীবনে আশেপাশের দুই বিবাহিতা নারীর প্রতি একধরণের মানসিক আকর্ষণ ও রোমান্টিক কল্পনার উন্মেষ ঘ...

নিশিপদ্ম - তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

নিশিপদ্ম    শব্দের অর্থ যে ফুল আঁধারে ফুটে। নিশিপদ্ম উপন্যাসটিতে মৃত্যু পথযাত্রী কাঞ্চনমালা তার জীবনেতিহাস বর্ণ্না করে গিয়েছে। বিচিত্র সে জীবন। কাঞ্চনমালার ভাষ্যমতে,  আটত্রিশ বছরের জীবনে সে যা দেখেছে তা তার জীবনের ঘটনার থেকেও বিচিত্র। আর ভালোবেসে যা পেয়েছে তা আবার যা দেখেছে তা থেকেও অপরুপ।  এদেশে মেয়েদের বিশেষণ অবলা। যারা বাল্যে পিতার, যৌবনে স্বামীর ও বার্ধক্যে পুত্রের দ্বারা রক্ষণীয়া। অবলা পিতৃহীন কাঞ্চনমালা বাল্যে মায়ের দ্বারা দেহ-ব্যবসায় নামে, আর যৌবনে ভালোবেসে হয়েছিলো রক্ষিতা। কাঞ্চনমালা বিশ্বাস করতো, ভাগ্যের ফাঁকি তপস্যায় লাভ হয়। গুরুর তপস্যা করতে সে শেষকালে কীর্তনগায়িকা হয়। গুরু ভজে সে উপহার পেয়েছিলো মুক্তোমালা। অমূল্য রতন মেনে সে তার যত্ন করেছিলো। সকল পঙ্কিলতা থেকে তাকে রক্ষা করেছিলো।  সত্য মানুষকে মুক্তি দেয়। কাঞ্চনমালা তার জীবনের সকল কদর্য সত্য তার কন্যা মুক্তোর কাছে বর্ণ্না করে দেহমুক্তি লাভ করে। কিন্ত, বন্দি করে যায় মুক্তোকে। মুক্তোমালা নাম বদলে হয়ে যায় মুক্তি। কিন্ত, প্রকৃতই কী তার মুক্তি মেলে ?

দুই বাড়ি - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

  পুজোর ছুটিতে লালবিহারী চাটুয্যে (পেশায় জজ) ও তার পরিবার কুড়ুলগাছি বেড়াতে আসেন। জজবাবুদের প্রতিবেশী নিধিরাম রায় সদ্য আইন পাশ করে মোক্তারি পেশায় প্রবেশ করেছে। কর্মস্থল মহকুমা টাউন। সপ্তাহান্তে বাড়িতে এসে প্রতিবেশীর ষোড়শী বালিকা কন্যা মঞ্জুরি দেবীর সাথে পরিচয় হয়। মঞ্জু'র সারল্য আর মিশুক স্বভাব এর কারণে মঞ্জুর প্রতি নিজের অজান্তেই দুর্বল হয়ে পড়ে তরুণ নিধু। মঞ্জু ও  কী নিধুর প্রতি দুর্বল ? এই প্রশ্নটি নিজেকে পর্যন্ত করার সাহস পায়না নিধু । কারণ , নিধুদের অর্থনৈতিক অবস্থা।  এক বাড়িতে নিধুর মক্কেল জোগাড় না হলে উনুনে হাড়ি চড়ে না , আরেক বাড়িতে উৎসব এর আমেজ বছরজুড়ে। একদিকে দারিদ্র, অন্যদিকে প্রাচুর্য । নিধু  নিজেকে মঞ্জুর থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে চায়। কিন্তু, মঞ্জুদের বাড়িটিতেই যেন তার শান্তি মেলে। যেখানে মঞ্জু আছে।

অশনি-সংকেত - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

  গঙ্গাচরণ বললেন, “ ও যেন গ্রামের লোকের চোখ ফুটিয়ে দিয়ে গেল। একটি মূর্তিমান বিপদের সংকেত স্বরূপ ওর মৃতদেহটা পড়ে রয়েছে আমগাছটার তলায়। অনাহারে প্রথম মৃত্যুর অশনি-সংকেত। ” অনাহারের আগুনে ছাই হয়ে যাওয়া লক্ষ লক্ষ মানুষের বিনাশের অশনি সংকেত। নিস্তেজ নিস্তরঙ্গ ব্রাহ্মণ পরিবারকে কেন্দ্র রেখে, ছোট একটা গ্রামকে নির্ভর করে গড়ে ওঠা উপন্যাসে লেখক দেখান, দুর্ভিক্ষ কীভাবে মানুষকে প্রভাবিত করে।   ভাতের জন্য কাপালীদের ছোটবউ নিজের শরীর বিকিয়ে দেয় পরপুরুষের কাছে। ব্রাক্ষ্মন দুর্গা ভট্টাচার্য মন্বন্তরের অনাহার ও অন্নাভাবের কারণে ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করতে কুণ্ঠিত হয় না। অনঙ্গ স্বামীকে লুকিয়ে অন্যের বাড়িতে ধান ভানার কাজ করে, শাক, লতা, মেটে আলু কুড়িয়ে স্বামী ছেলের মুখে খাবার তুলে দেয়। মানুষ ভাতের অভাবে শামুক গুগলি খাওয়া শুরু করে। তবুও শেষরক্ষা হয়না। মৃত্যু হানা দেয় নতুন গায়ে। কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর লেখা ‘চল্লিশের দিনগুলি’ কবিতার ভাষায় - "মানুষগুলি তখন পোকামাকড়ের মতো মরে যাচ্ছিল'... 'সে বড় অদ্ভুত এক সময় / পলকা ঠুনকো কাচের বাসনের মতোই তখন ভেঙে যাচ্ছিল সব মূল্যবোধ।"  বিভূতিভূষণ...

একেই বলে শুটিং --- সত্যজিৎ রায়

  “একেই বলে শুটিং” সত্যজিৎ রায়ের চলচ্চিত্রজীবনের অভিজ্ঞতা, স্মৃতি এবং শুটিং-ঘিরে নানা বাস্তব ঘটনার একটি জীবন্ত সংকলন। বইটির সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর স্বাভাবিক ও সহজ ভাষা। কোথাও কোনো জটিলতা নেই, কোনো অতিরিক্ত তাত্ত্বিক আলোচনা নেই। বরং মনে হয়, একজন অভিজ্ঞ চলচ্চিত্র নির্মাতা খুব স্বাভাবিকভাবে নিজের কাজের গল্প শোনাচ্ছেন। এই সরলতা বইটিকে শুধু তথ্যবহুলই নয়, অত্যন্ত উপভোগ্য করে তুলেছে। বইয়ের প্রতিটি অধ্যায়ে শুটিং চলাকালীন নানা অপ্রত্যাশিত ঘটনা, মজার মুহূর্ত এবং বাস্তব সমস্যার কথা উঠে এসেছে। বিশেষ করে *পথের পাঁচালী*, *গুপী গাইন বাঘা বাইন*–এর মতো ক্লাসিক চলচ্চিত্রের পেছনের গল্পগুলো পাঠককে এক অন্যরকম অনুভূতি দেয়। পাঠক যেন সরাসরি সেই সময়ের সেটে উপস্থিত হয়ে যান। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই বইটি পাঠককে সিনেমা দেখার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেবে। সব মিলিয়ে, “একেই বলে শুটিং” শুধু একটি বই নয়, এটি চলচ্চিত্র নির্মাণের অন্তরালের এক অনন্য জানালা। সিনেমা প্রেমীদের জন্য এটি অবশ্যই পড়ার মতো একটি বই। **রেটিং: ☆ (৪.৫/৫)**

এভারিস্ত গ্যালোয়া

গণিতবিদরা রোমান্টিক হয়না ! এই বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করলে কবি, সাহিত্যিক হওয়া যায়না !   আজকে আমি এমন দুইজন ব্যাক্তির উদাহরণ আপনাদের সামনে হাজির করবো যারা ছিলেন স্বীকৃত গণিতবিদ। কিন্তু, উপরের দুইটি স্টেটমেন্ট তাদের জন্য প্রযোজ্য নয়।  একজন হলেন উমর খৈয়াম, যাকে আপনারা কবি হিসেবে চিনে থাকবেন। কিন্তু, তিনি ছিলেন শখের কবি। যেমন ভিঞ্চি ছিলেন শখের চিত্রকর। অন্যজন হলেন, এভারিস্ট গ্যালোয়া।  "রুটি মদ ফুরিয়ে যাবে প্রিয়ার কালো চোখ ঘোলাটে হয়ে যাবে বই, সেতো অনন্ত যৌবনা।"  পারস্যের কবি উমর খৈয়ামের এই কবিতাটির সাথে আপনারা সবাই পরিচিত। তার আরেকটি বিখ্যাত উক্তি হলো -   " তোমার হৃদয়ে যেদিন ভালোবাসা থাকবে না, সে দিনটাই অপচয় হলো। "  গ্যালোয়া আরও একধাপ এগিয়ে বললেন, প্রেমিকাকে না পেলে এ জীবন রেখে লাভ নাই।  প্রেমিকাকে পাওয়ার জন্য তিনি গুলি ছাড়া বন্দুক নিয়ে লড়াইয়ে নেমে পড়লেন। যা হওয়ার তাই হলো। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় । ওই অবস্থায় ৩১ মে, ১৮৩২ সালে মারা যান।   মৃত্যুর সময় তার শয্যা পাশে ছিলো তার ছোটো ভাই আলফ্রেড। মৃত্যুর সময় তার ...